রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর দাঁত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক মাদ্রাসাশিক্ষক মেরে শিক্ষার্থীর দাঁত ভেঙে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার রেলবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জুবায়ের হোসেন (১৩) নামের ওই শিক্ষার্থী রেলবাজার এলাকার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। সে এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জুবায়ের হোসেনের বাড়ি জেলার তানোর উপজেলায়। তার তিনটি দাঁত নড়ে গেছে। একটি দাঁত অর্ধেক ভেঙে গেছে। এছাড়া তার বুকে রক্ত জমাট বেধে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইয়াসিন আলী। ঘটনার পর থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। সোমবার বিকেলে তারা মাদ্রাসায় গিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। উপযুক্ত বিচার না করলে প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে ওই শিশুকে চিকিৎসাধীন দেখা যায়। সেখানে তার মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় সবাই খেলে। ওই সময় পাশে এক বড় ভাই মোবাইল দেখছিল। সেখানে আমার ছেলেও যায়। সেও মোবাইল দেখছিল। তখন শিক্ষক ইয়াসিন আলী তাকে দেখেন। দেখার পর আমার ছেলেকে ধরে গলা টিপে ধরেছে। তারপর একটা থাপ্পড় দিয়েছে। সে তখন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। এরপর তুলে ধরে নাকের কাছে মারে। এ সময় তিনটা দাঁত নড়ে গেছে। একটা দাঁতের অর্ধেক ভেঙেই পড়ে গেছে। রক্ত পড়তে শুরু করে। জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। তাকে আবার তুলে বল যেভাবে মারে ওইভাবে মেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরে আমার ছেলেকে প্রথমে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিক থেকে বলেছে যে খুব সিরিয়াস হয়ে গেছে। ক্লিনিকে হবে না। লিভারে রক্ত জমা হয়ে গেছে। রাজশাহী নিয়ে যাওয়া লাগবে। তাই এখানে এনেছি। এখন ডাক্তার বলছে সুস্থ হতে কয়েকদিন সময় লাগবে।’

ফাতেমা বলেন, ‘একটা ছোট বাচ্চাকে কেউ এভাবে মারতে পারে সেটা বিশ্বাসই করা যায় না। আমি এর বিচার চাই।’

হাসপাতালে মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক ফারুক হোসেন ছিলেন। শিশু জুবায়েরের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তিনি এই প্রতিবেদকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াসিন আলী ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাওলানা দুরুল হুদাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে নাটোরে এ রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। ফেসবুকে সেটা দেখে আমি এক মিটিংয়ে সব শিক্ষককে বলেছিলাম মাসুম বাচ্চাদের সঙ্গে যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে। তারপরও এটা হয়েছে। আমাকে জানানোও হয়নি। গতকাল মসজিদে গিয়ে শুনেছি। এ নিয়ে উপযুক্ত বিচার হবে

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে হট্টগোল করেছে। তখন আমি ঘটনাটি জানতে পেরেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মেরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর দাঁত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক মাদ্রাসাশিক্ষক মেরে শিক্ষার্থীর দাঁত ভেঙে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার রেলবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জুবায়ের হোসেন (১৩) নামের ওই শিক্ষার্থী রেলবাজার এলাকার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। সে এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জুবায়ের হোসেনের বাড়ি জেলার তানোর উপজেলায়। তার তিনটি দাঁত নড়ে গেছে। একটি দাঁত অর্ধেক ভেঙে গেছে। এছাড়া তার বুকে রক্ত জমাট বেধে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইয়াসিন আলী। ঘটনার পর থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। সোমবার বিকেলে তারা মাদ্রাসায় গিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। উপযুক্ত বিচার না করলে প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে ওই শিশুকে চিকিৎসাধীন দেখা যায়। সেখানে তার মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় সবাই খেলে। ওই সময় পাশে এক বড় ভাই মোবাইল দেখছিল। সেখানে আমার ছেলেও যায়। সেও মোবাইল দেখছিল। তখন শিক্ষক ইয়াসিন আলী তাকে দেখেন। দেখার পর আমার ছেলেকে ধরে গলা টিপে ধরেছে। তারপর একটা থাপ্পড় দিয়েছে। সে তখন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। এরপর তুলে ধরে নাকের কাছে মারে। এ সময় তিনটা দাঁত নড়ে গেছে। একটা দাঁতের অর্ধেক ভেঙেই পড়ে গেছে। রক্ত পড়তে শুরু করে। জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। তাকে আবার তুলে বল যেভাবে মারে ওইভাবে মেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরে আমার ছেলেকে প্রথমে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিক থেকে বলেছে যে খুব সিরিয়াস হয়ে গেছে। ক্লিনিকে হবে না। লিভারে রক্ত জমা হয়ে গেছে। রাজশাহী নিয়ে যাওয়া লাগবে। তাই এখানে এনেছি। এখন ডাক্তার বলছে সুস্থ হতে কয়েকদিন সময় লাগবে।’

ফাতেমা বলেন, ‘একটা ছোট বাচ্চাকে কেউ এভাবে মারতে পারে সেটা বিশ্বাসই করা যায় না। আমি এর বিচার চাই।’

হাসপাতালে মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক ফারুক হোসেন ছিলেন। শিশু জুবায়েরের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তিনি এই প্রতিবেদকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াসিন আলী ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাওলানা দুরুল হুদাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে নাটোরে এ রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। ফেসবুকে সেটা দেখে আমি এক মিটিংয়ে সব শিক্ষককে বলেছিলাম মাসুম বাচ্চাদের সঙ্গে যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে। তারপরও এটা হয়েছে। আমাকে জানানোও হয়নি। গতকাল মসজিদে গিয়ে শুনেছি। এ নিয়ে উপযুক্ত বিচার হবে

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে হট্টগোল করেছে। তখন আমি ঘটনাটি জানতে পেরেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’