বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কে কিংবদন্তিদের প্রতিক্রিয়া

মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ৩-২ গোলের সেই ম্যাচে রেফারিং ও ভিএআরের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেছেন, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে সুবিধা দিতেই ম্যাচে কারচুপি করা হয়েছে। তার এমন মন্তব্যের পর ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে আলোচনা।

বিতর্কিত সেই ম্যাচ নিয়ে নিজেদের মত জানিয়েছেন ফুটবলের কিংবদন্তিরাও। তবে সবার প্রতিক্রিয়া ছিল এক রকম নয়।

ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি মিশরের হতাশা বুঝতে পারলেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে সমর্থন করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তভাবে বিষয়টি বুঝতে হবে। সবাই চিৎকার করছে, কিন্তু সবাই একই ঘটনা দেখছে না। আমি রিপ্লে কয়েকবার দেখেছি। মিশরের হতাশার কারণ যেমন বুঝতে পারছি, তেমনি আর্জেন্টিনা কেন মনে করছে সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, সেটিও বুঝতে পারছি।’

অঁরির মতে, মূল সমস্যা সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল—তা নয়; বরং ভিএআরের প্রয়োগে ধারাবাহিকতার অভাবই প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘মিশরের গোলটি ভিএআর খুব ভালোভাবে পর্যালোচনা করে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরে পেনাল্টির আবেদনের সময় একই ধরনের বিস্তারিত পর্যালোচনা দেখা যায়নি। এখানেই মানুষের প্রশ্ন তৈরি হয়। ভিএআর চালুর উদ্দেশ্য ছিল ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। সমর্থকরা নিখুঁত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সবার জন্য একই নিয়মের প্রয়োগ চায়।’

তবে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করেছেন অঁরি। তার মতে, ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটি ছিল মানসিক শক্তির বড় উদাহরণ।

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক রয় কিন মিশরের কোচের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হারার পর সমর্থকরা এমন কথা বলতে পারে, কিন্তু জাতীয় দলের একজন কোচের কাছ থেকে এটি আশা করা যায় না। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও যদি ম্যাচ হারেন, তাহলে আগে নিজেদের ভুলের দিকে তাকাতে হবে।’

রয় কিন আরও বলেন, ‘মেসি জিতলেই অনেকে ফুটবল বাদ দিয়ে ষড়যন্ত্র খুঁজতে শুরু করে। এটি সহজ অজুহাত। পরাজয় মেনে নিয়ে কোথায় ভুল হয়েছে, সেটি বিশ্লেষণ করা উচিত।’

সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও একই সুরে কথা বলেছেন। মেসির জনপ্রিয়তার কারণে আর্জেন্টিনা সুবিধা পায়—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘মেসি জিতলেই মানুষ ষড়যন্ত্রের গল্প শুরু করে। এটি পুরোনো একটি অজুহাত। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও যদি ম্যাচ ধরে রাখতে না পারেন, তাহলে রেফারি বা টুর্নামেন্টকে দায়ী করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।’

ইব্রাহিমোভিচের মতে, বিশ্বকাপে ভুলের সুযোগ কম। তিনি বলেন, ‘একজন জাতীয় দলের কোচের উচিত দায়িত্ব নেওয়া এবং উদাহরণ তৈরি করা। অজুহাত তৈরি করা নয়। আর্জেন্টিনা লড়াই করে জিতেছে। হারলে তা মেনে নিয়ে শিক্ষা নিতে হবে।’

এদিকে মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এখনো ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কে কিংবদন্তিদের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ৩-২ গোলের সেই ম্যাচে রেফারিং ও ভিএআরের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মিশরের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেছেন, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে সুবিধা দিতেই ম্যাচে কারচুপি করা হয়েছে। তার এমন মন্তব্যের পর ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে আলোচনা।

বিতর্কিত সেই ম্যাচ নিয়ে নিজেদের মত জানিয়েছেন ফুটবলের কিংবদন্তিরাও। তবে সবার প্রতিক্রিয়া ছিল এক রকম নয়।

ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি মিশরের হতাশা বুঝতে পারলেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে সমর্থন করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তভাবে বিষয়টি বুঝতে হবে। সবাই চিৎকার করছে, কিন্তু সবাই একই ঘটনা দেখছে না। আমি রিপ্লে কয়েকবার দেখেছি। মিশরের হতাশার কারণ যেমন বুঝতে পারছি, তেমনি আর্জেন্টিনা কেন মনে করছে সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, সেটিও বুঝতে পারছি।’

অঁরির মতে, মূল সমস্যা সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল—তা নয়; বরং ভিএআরের প্রয়োগে ধারাবাহিকতার অভাবই প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘মিশরের গোলটি ভিএআর খুব ভালোভাবে পর্যালোচনা করে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরে পেনাল্টির আবেদনের সময় একই ধরনের বিস্তারিত পর্যালোচনা দেখা যায়নি। এখানেই মানুষের প্রশ্ন তৈরি হয়। ভিএআর চালুর উদ্দেশ্য ছিল ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। সমর্থকরা নিখুঁত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সবার জন্য একই নিয়মের প্রয়োগ চায়।’

তবে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করেছেন অঁরি। তার মতে, ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটি ছিল মানসিক শক্তির বড় উদাহরণ।

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক রয় কিন মিশরের কোচের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ হারার পর সমর্থকরা এমন কথা বলতে পারে, কিন্তু জাতীয় দলের একজন কোচের কাছ থেকে এটি আশা করা যায় না। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও যদি ম্যাচ হারেন, তাহলে আগে নিজেদের ভুলের দিকে তাকাতে হবে।’

রয় কিন আরও বলেন, ‘মেসি জিতলেই অনেকে ফুটবল বাদ দিয়ে ষড়যন্ত্র খুঁজতে শুরু করে। এটি সহজ অজুহাত। পরাজয় মেনে নিয়ে কোথায় ভুল হয়েছে, সেটি বিশ্লেষণ করা উচিত।’

সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও একই সুরে কথা বলেছেন। মেসির জনপ্রিয়তার কারণে আর্জেন্টিনা সুবিধা পায়—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘মেসি জিতলেই মানুষ ষড়যন্ত্রের গল্প শুরু করে। এটি পুরোনো একটি অজুহাত। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও যদি ম্যাচ ধরে রাখতে না পারেন, তাহলে রেফারি বা টুর্নামেন্টকে দায়ী করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।’

ইব্রাহিমোভিচের মতে, বিশ্বকাপে ভুলের সুযোগ কম। তিনি বলেন, ‘একজন জাতীয় দলের কোচের উচিত দায়িত্ব নেওয়া এবং উদাহরণ তৈরি করা। অজুহাত তৈরি করা নয়। আর্জেন্টিনা লড়াই করে জিতেছে। হারলে তা মেনে নিয়ে শিক্ষা নিতে হবে।’

এদিকে মিশরের বিপক্ষে জয়ের পর আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এখনো ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।