জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যারা পালিয়ে যায়, তারা আর ফিরে আসে না। সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারত। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে এই উত্তরা থেকেই প্রতিরোধ শুরু হবে।’
গতকাল রোববার জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদী বাহিনীর প্রতিরোধে বৃহত্তর উত্তরাসহ ঢাকা উত্তরের জনতার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণে উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘উত্তরা গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান হটস্পট ছিল। প্রতিরোধের প্রধান দুর্গ ছিল এই উত্তরা। ছত্রিশ জুলাই উত্তরা থেকে গণভবনমূখী ঐতিহাসিকযাত্রা শুরু হয়েছিল। একদিকে উত্তরা, একদিকে যাত্রাবাড়ী থেকে মার্চ ফর গণভবন শুরু হয়। যার মধ্য দিয়ে হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়। আমরা উত্তরাকে কখনো ভুলে যাব না।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘দুই বছর আগের এদিন আমাকে গুম করে। বহু মানুষকে সেদিন গুম করে হাসিনার বাহিনী। দুই বছর পরে আমাদের একটাই চাওয়া। স্বৈরাচার এবং দোসরদের বিচার। স্বৈরাচারের বিচার না হলে আবারও স্বৈরাচার তৈরি হবে। যাতে স্বৈরাচার তৈরি না হয় এজন্য আমরা বিচার চাই।’
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘এদেশের পরিবর্তনের পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। বিএনপি এখন একত্রিশ দফা ভুলে গেছে। তারা নোট অব ডিসেন্ট এর জুলাই সনদের কথা বলছে। নোট অব ডিসেন্ট প্রতারণা বাদ দিয়ে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। সংবিধান সংশোধন এর আগে বিএনপির সংশোধন হতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবেশী বদলানো যায় না। যে প্রতিবেশী আমার পরিবারের সদস্যদের খুন করে সে প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা যায় না।’ এ সময় চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত উত্তরা গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইয়ের আহত যোদ্ধারা।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























