সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, বাস্তব পরিস্থিতির অনুরূপ পরিবেশে প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে এমআইএসটিতে পৌঁছালে এমআইএসটি কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান তাকে স্বাগত জানান। পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, গবেষণা, পেটেন্ট ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা প্রথমে এমআইএসটির সাইবার রেঞ্জ পরিদর্শন করেন। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান সাইবার রেঞ্জের সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, বাস্তব পরিস্থিতির অনুরূপ পরিবেশে প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার রেঞ্জের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
এ সময় ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের নিরাপত্তা শুধু তার ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তথ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখাও জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। তিনি সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও দেশীয় প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম ম্যাভিরভ দলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন। দলের সদস্যরা তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
পরে এমআইএসটির গবেষণা ও উন্নয়ন শাখা পেটেন্ট ও উদ্ভাবনবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণালব্ধ ধারণা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ থেকে ২৭ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে অনুষ্ঠিত ম্যাটেরভ ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবোট কম্পিটিশন ২০২৬-এ বিশ্বের ১৬টি দেশের ৭৭টি দলের মধ্যে এমআইএসটির দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গবেষণার সাফল্য শুধু প্রতিবেদন বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কার্যকর গবেষণাকে পেটেন্ট, ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং দেশীয় পণ্যে রূপান্তর করতে হবে। এতে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে, বৈদেশিক নির্ভরতা কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি তরুণ উদ্ভাবকদের প্রয়োজনীয় গবেষণা সুবিধা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জনকল্যাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
এমআইএসটির কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের চলমান শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে ম্যাভিরভ দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এ সময় এমআইএসটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টারের নাম 






















