মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের সীমান্তের সর্বত্র সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখুন।’

আজ সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

এর আগে আজ বেলা ১১টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছলে বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশিত সময় : ০৬:০১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের সীমান্তের সর্বত্র সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখুন।’

আজ সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

এর আগে আজ বেলা ১১টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছলে বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।