শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার আপনার পদত্যাগের দাবি উঠবে

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করা হলে তরুণ সমাজ এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীরই পদত্যাগ দাবি করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে বোস্টন ইউনিভার্সিটির এই গ্র্যাজুয়েট বলেন, “প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ২২ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরে গেছে। মোদিজি, আমি আবারও অনুরোধ করছি-শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। তা না হলে এই আন্দোলন কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্দোলনের পরবর্তী তীর আপনার পদত্যাগের দিকেই ধাবিত হবে।”

প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এই তরুণ নেতা কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম বন্ধে সরকার যে পরিমাণ উদাসীনতা দেখিয়েছে, তার এক-দশমাংশ মনোযোগও যদি তারা দিত-তবে ২২টি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যেত না। আন্দোলনের স্থানে ইন্টারনেট জামার বসানো কিংবা ব্যারিকেড দেওয়ার কাজে সরকার যতটা তৎপরতা দেখাচ্ছে, অপরাধ দমনে তা দেখা যায়নি।

একজন ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রী কোনোভাবেই দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না উল্লেখ করে অভিজিৎ আরও বলেন, “যদি একজন ব্যর্থ মন্ত্রীকে রক্ষা করা কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের চেয়ে বড় মনে করা হয়, তবে মনে রাখবেন-ভারতের জনগণ আর কখনো আপনাদের ভোট দেবে না। ঘটনার ৩৪ দিন পর প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ল, অথচ তিনি এখনো এই অযোগ্য মন্ত্রীকে রক্ষা করে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং জানান, সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং অন্তত চারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। তারা যেকোনো সরকারি বাসভবন বা কার্যালয়ে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, আলোচনা হতে হবে যন্তর মন্তর কিংবা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার চটকদার টুইট করলেও প্রকৃত আলোচনার সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। তারা আমাদের বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কার্যালয়ে যেতে বলছে, যা আন্দোলনকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তরুণদের এই সংগঠনটি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

এবার আপনার পদত্যাগের দাবি উঠবে

প্রকাশিত সময় : ১০:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করা হলে তরুণ সমাজ এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীরই পদত্যাগ দাবি করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে বোস্টন ইউনিভার্সিটির এই গ্র্যাজুয়েট বলেন, “প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ২২ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরে গেছে। মোদিজি, আমি আবারও অনুরোধ করছি-শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। তা না হলে এই আন্দোলন কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্দোলনের পরবর্তী তীর আপনার পদত্যাগের দিকেই ধাবিত হবে।”

প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এই তরুণ নেতা কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম বন্ধে সরকার যে পরিমাণ উদাসীনতা দেখিয়েছে, তার এক-দশমাংশ মনোযোগও যদি তারা দিত-তবে ২২টি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যেত না। আন্দোলনের স্থানে ইন্টারনেট জামার বসানো কিংবা ব্যারিকেড দেওয়ার কাজে সরকার যতটা তৎপরতা দেখাচ্ছে, অপরাধ দমনে তা দেখা যায়নি।

একজন ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রী কোনোভাবেই দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না উল্লেখ করে অভিজিৎ আরও বলেন, “যদি একজন ব্যর্থ মন্ত্রীকে রক্ষা করা কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের চেয়ে বড় মনে করা হয়, তবে মনে রাখবেন-ভারতের জনগণ আর কখনো আপনাদের ভোট দেবে না। ঘটনার ৩৪ দিন পর প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ল, অথচ তিনি এখনো এই অযোগ্য মন্ত্রীকে রক্ষা করে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং জানান, সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং অন্তত চারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। তারা যেকোনো সরকারি বাসভবন বা কার্যালয়ে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, আলোচনা হতে হবে যন্তর মন্তর কিংবা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার চটকদার টুইট করলেও প্রকৃত আলোচনার সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। তারা আমাদের বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কার্যালয়ে যেতে বলছে, যা আন্দোলনকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তরুণদের এই সংগঠনটি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস