বর্ষা মৌসুম অনেকের জন্য স্বস্তির হলেও ত্বকের রোগে ভোগা মানুষের জন্য এটি হয়ে ওঠে বাড়তি দুর্ভোগের সময়। বিশেষ করে একজিমা বা Eczema-তে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে আর্দ্রতা ও ঘন ঘন ভেজা আবহাওয়া ত্বকের জ্বালা, চুলকানি ও প্রদাহকে আরও তীব্র করে তোলে।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেশি থাকে। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ত্বক সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসে। ভেজা কাপড়, ঘাম এবং দীর্ঘ সময় ত্বক স্যাঁতসেঁতে থাকা একজিমার উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া বর্ষায় ঘরের ভেতরেও ছত্রাক (মোল্ড) জন্মানোর প্রবণতা বেড়ে যায়, যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য মারাত্মক ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
বর্ষা মৌসুমে একজিমা আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়—
তীব্র চুলকানি
ত্বক লাল হয়ে যাওয়া
খসখসে ও শুষ্ক ত্বক
ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফাটা ত্বক
কিছু ক্ষেত্রে পানি বা তরল বের হওয়া
এসব লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
একজিমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্ষাকালে কিছু সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি—
ত্বক সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
ভেজা কাপড় দ্রুত পরিবর্তন করুন
খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল এড়িয়ে চলুন
ময়েশ্চারাইজার নিয়মিত ব্যবহার করুন
অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন সাবান বা কসমেটিকস ব্যবহার না করা
ঘরের আর্দ্রতা কমাতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি একজিমার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, ত্বকে সংক্রমণ দেখা দেয় বা প্রচণ্ড অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সচেতন থাকলেই সুরক্ষা
বর্ষার আর্দ্রতা এড়ানো সম্ভব না হলেও সঠিক যত্নের মাধ্যমে একজিমার উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়মিত পরিচর্যা ও সতর্ক জীবনযাপনই এই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 






















