শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে জেনজি আন্দোলন

ভারতে চলমান ‘জেনজি আন্দোলন’ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রাজধানী দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভারতীয়রাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন। এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও আরও বেড়েছে।

দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্দোলনের প্রভাব দেশের বাইরে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভারতীয় জড়ো হয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজতে বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে সেই উদ্যোগেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবহৃত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করেছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানী দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

আন্দোলন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকার কারণে ভারতের পরিস্থিতি এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে সংকট কত দ্রুত সমাধানের পথে এগোবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে জেনজি আন্দোলন

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
ভারতে চলমান ‘জেনজি আন্দোলন’ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রাজধানী দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভারতীয়রাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন। এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও আরও বেড়েছে।

দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্দোলনের প্রভাব দেশের বাইরে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভারতীয় জড়ো হয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজতে বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে সেই উদ্যোগেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবহৃত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করেছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানী দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

আন্দোলন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকার কারণে ভারতের পরিস্থিতি এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে সংকট কত দ্রুত সমাধানের পথে এগোবে।