শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের এমপির ইমামতি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ও পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের ঠিক আগে পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে, এতে কেউ গুরুতর আহত হয়নি। তাৎক্ষনিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবারে এই মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চান। তবে, বিএনপি সমর্থকদের আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। আজ তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপি সমর্থকরা বাধা দেন। এ সময় মসজিদের ভেতরেই জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্বে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম বলেন, “দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবার নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি পারেননি। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে এসেছিলেন। ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিছু বলেনি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি জানান। এ সময় জামায়াত সমর্থকরা মুসুল্লিদের ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল ঘুষি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে পুলিশ সবাইকে থামালে মসজিদের নিয়মিত ইমামই নামাজ পড়ান।

এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমায়ও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি সমর্থকরা ঝামেলা করবে এজন্য যাওয়া হয়নি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি সমর্থকরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা।

সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের ওখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে—এমন শঙ্কা ছিল। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জামায়াতের এমপির ইমামতি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ও পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের ঠিক আগে পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে, এতে কেউ গুরুতর আহত হয়নি। তাৎক্ষনিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবারে এই মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চান। তবে, বিএনপি সমর্থকদের আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। আজ তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপি সমর্থকরা বাধা দেন। এ সময় মসজিদের ভেতরেই জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঝামেলার আশঙ্কায় পূর্বে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম বলেন, “দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবার নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি পারেননি। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে এসেছিলেন। ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিছু বলেনি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি জানান। এ সময় জামায়াত সমর্থকরা মুসুল্লিদের ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল ঘুষি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে পুলিশ সবাইকে থামালে মসজিদের নিয়মিত ইমামই নামাজ পড়ান।

এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমায়ও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি সমর্থকরা ঝামেলা করবে এজন্য যাওয়া হয়নি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি সমর্থকরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা।

সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের ওখানে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হতে পারে—এমন শঙ্কা ছিল। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। এরপরও নামাজের আগ মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।