ঝলমলে জগতে পা রেখে বলিউডের অনেক অভিনেত্রী যশ-খ্যাতি, অর্থ—সবই পেয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বিয়ে করে সংসারীও হয়েছেন। আবার বেশ কজন তারকা অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা বিয়ের নামটি মুখেও আনছেন না। তাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রেম-বিয়ের প্রস্তাব আসলেও সংসারে থিতু হতে নারাজ। মেঘে মেঘে বেলা অনেক গড়িয়েছে, বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে; তবু জীবনকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করতে চান না। এমন পাঁচ নায়িকাকে নিয়ে এই প্রতিবেদন—

‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ সিনেমার সাফল্যের পর আমিশা প্যাটেলের নাম রাতারাতি পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। পর্দায় প্রেমের দৃশ্যে যতই সাবলীল হোন না কেন, বাস্তবজীবনে বিয়ের সিদ্ধান্তে বরাবরই নিজের শর্তে চলেছেন। এমন প্রস্তাবও এসেছে, যেখানে বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আমিশার স্পষ্ট উত্তর ছিল—নিজের পেশা ছেড়ে বিয়ে নয়।

আমিশার বয়স এখন একান্ন বছর। তারপরও তার বিয়ের প্রস্তাব আসা বন্ধ হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে আমিশা জানান, এখনো তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসে। এমনকি, তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট পুরুষরাও তাকে ডেটে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে আমিশার ‘না’ বিয়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং ভুল শর্তে, ভুল মানুষের সঙ্গে বিয়ের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান।

প্রাক্তন মিস ইউনিভার্স ও বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের বয়সের অঙ্ক থেমে নেই। মেঘে মেঘে বেলা অনেক গড়িয়েছে। আগামী ১৯ নভেম্বর, একান্না বছর পূর্ণ করবেন। জীবনের এ পর্যায়েও এখনো অবিবাহিত। বিয়ে না করলেও দুই সন্তানের জননী সুস্মিতা। রিনি ও আলিশা নামে দুই কন্যাসন্তান দত্তক নিয়েছেন। সিঙ্গেল মাদার হিসেবে সন্তানদের বড় করছেন এই অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত জীবনে অনেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন সুস্মিতা। তিনবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে আসেন এই অভিনেত্রী। ২০২২ সালে অভিনেত্রী-লেখিকা টুইঙ্কেল খান্নাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে কথা বলেছিলেন সুস্মিতা সেন। তার ভাষায়, “আমি তিনবার বিয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আমাকে বাঁচিয়েছেন। পরে তাদের জীবনে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে তা বলে বোঝাতে পারব না। সৃষ্টিকর্তা আমাকে রক্ষা করেছেন। আমার বাচ্চাদেরকেও। তিনি আমাকে এসব বাজে সম্পর্কে জড়াতে দেননি।”

বিয়ে না করার কারণ ব্যাখ্যা করে সুস্মিতা সেন বলেছিলেন, “আমি সিঙ্গেল কারণ এখনো এমন কাউকে পাইনি; যার সঙ্গে আমি আমার জীবন কাটাতে চাই। আমি ভালোবাসার অভাববোধ করি না; যা দারুণ বিষয়! ভারতীয়রা এটা বিশ্বাস করেন যে, এটি বিয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমার জীবনে সেসব আগে থেকেই আছে। আমার দুটি সুন্দর সন্তান আছে। আমি ওদের একাই বড় করছি। আমি আমার জীবনে কোনো কিছুর অভাববোধ করি না।”

জনপ্রিয় অভিনেত্রী টাবু বলিউডের প্রচলিত নিয়ম মেনে চলার মানুষ কখনো ছিলেন না। বছরের পর বছর ধরে নিজের পছন্দের চরিত্রে অভিনয় করছেন। গসিভ বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনার বাইরে থেকে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। ৫৪ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী এখনো অবিবাহিত। টাবু বিয়ে না করলেও প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন অবশ্য তার পিছু ছাড়েনি। নাগার্জুনা আক্কিনেনির তার ঘনিষ্ঠতার কথা বহু বছর ধরে আলোচনায়। কিন্তু সেই সম্পর্কও পরিণতি পায়নি। যদিও এ অভিনেত্রী কখনো তার ব্যক্তিগত জীবনকে প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় বানাতে চাননি।

টাবুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ কিছু মজার ঘটনাও রয়েছে। তার সিনেমা দেখে ভক্তেরা প্রকাশ্যেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। কেউ মজা করে, কেউ আবার বেশ গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে। কিন্তু টাবুর ব্যক্তিজীবনে ‘সিঙ্গেল’ তকমাটা রয়ে গেছে। রুপালি পর্দায় শত প্রেমের গল্পের নায়িকা হলেও বাস্তব জীবনে নিজের গল্পটা নিজের কাছেই রেখেছেন।

চলতি বছরের মে মাসে হার্পারস বাজারকে সাক্ষাৎকার দেন টাবু। এ আলাপচারিতায় অভিনেত্রীদের বয়স বাড়া নিয়ে চাপ, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সততার সঙ্গে জীবনযাপন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। অভিনেত্রীদের বয়স প্রসঙ্গে টাবু বলেছিলেন, “মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত। তারা আপনাকে আয়না দেখাতে চায়, ভাবটা এমন যে, আপনার বাড়িতে যেন আয়না নেই।”

নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাগমা। অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও এখন অভিনয়ে সরব নন। ২০০৪ সালে বিজেপির রাজনীতিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। নাগমার ব্যক্তিগত জীবনেও প্রেম এসেছে। নব্বই দশকের শেষে জোর গুঞ্জন চাউর হয়েছিল, ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। এ নিয়ে তখন জলঘোলা কম হয়নি। একান্ন বছরের নাগমা ব্যক্তিগত জীবনে এখনো অবিবাহিত।

বিনোদন ডেস্ক/ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 
























