সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া মাদক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ (৩০) গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে পালাননি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান।

ঘটনার পর প্রথমে পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন। পরে দায়িত্বে থাকা এক উপপরিদর্শক (এসআই) তাকে ভ্যান থেকে নামালে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে পরবর্তী তদন্তে পুলিশের দেওয়া ওই তথ্য সঠিক নয় বলে উঠে এসেছে।

পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তদন্তের জন্য গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোন স্থান থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়েও তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তদন্তে প্রথমে যে স্থানটির কথা বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে জানা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত স্থান এবং কীভাবে পিচ্চি রাজা পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেলেন, তা উদঘাটনে তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘প্রিজন ভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে নিয়ম অনুযায়ী কোথাও থামার সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে ভ্যান থামানোর নিয়ম রয়েছে। অথচ পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে ভ্যান থামানোর কথা বলছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই আসে না।’

তিনি জানান, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান জানান, পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত সময় : ১০:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া মাদক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ (৩০) গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে পালাননি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান।

ঘটনার পর প্রথমে পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন। পরে দায়িত্বে থাকা এক উপপরিদর্শক (এসআই) তাকে ভ্যান থেকে নামালে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে পরবর্তী তদন্তে পুলিশের দেওয়া ওই তথ্য সঠিক নয় বলে উঠে এসেছে।

পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তদন্তের জন্য গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোন স্থান থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়েও তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তদন্তে প্রথমে যে স্থানটির কথা বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে জানা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত স্থান এবং কীভাবে পিচ্চি রাজা পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেলেন, তা উদঘাটনে তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘প্রিজন ভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে নিয়ম অনুযায়ী কোথাও থামার সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে ভ্যান থামানোর নিয়ম রয়েছে। অথচ পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে ভ্যান থামানোর কথা বলছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই আসে না।’

তিনি জানান, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান জানান, পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।