সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনা, মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

সদ্যই শেষ হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের আসরে রেফারিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হয়েছে তুমুল সমালোচনা। এসব বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচকদের একহাত নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা এই আসরের সমালোচনা করেছেন, তারা মূলত ‘ঘৃণায় আচ্ছন্ন’ ছিলেন।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রামে ১৫টি স্লাইডের একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো, যা পরবর্তীতে ফিফার অফিসিয়াল পেজ থেকেও প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের অখণ্ডতা ও আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিক ও সমালোচকদের একহাত নিয়ে তিনি দাবি করেন, টুর্নামেন্টটি শতভাগ নিরাপদ ও সুরক্ষিত ছিল এবং এতে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো জানান, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা বা রাজনৈতিক বিতর্কের মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও, ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা প্রায় ৭০ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতি এবং টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। তিনি বলেন, নেতিবাচকতা বা মিথ্যা গুজব না ছড়িয়ে তারা যেন ধ্যান, প্রার্থনা কিংবা ফুটবল ম্যাচ উপভোগের মাধ্যমে নিজেদের মানসিক শান্তি খুঁজে নেন।ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘যারা কলম ও কাগজের আড়ালে বসে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, আমরা ফিফাতে সামনের সারিতে থেকে বিশ্বের সেরা আয়োজনটি উপহার দিচ্ছি।’ ফুটবল বিশ্বকে এক করে—এই বার্তা দিয়ে তিনি সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন এবং সবার প্রতি ভালোবাসা জানান।

৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ইরান ও সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ফিফা দুটি দেশের মধ্যে ফুটবলকে কেন্দ্র করে সেতু বন্ধন তৈরি করেছে। ফিফা সভাপতি সফলতা দাবি করলেও টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।

ইনফান্তিনোর দাবির বিপরীতে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই নিজ দলকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিপীড়িত দল হিসেবে অভিহিত করেন। ভিসা বিলম্ব, কর্মকর্তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তরে বাধ্য হওয়াসহ নানা লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে দলটিকে। মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা ফিফা স্থগিত করলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফা ফিফার এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ও অন্যায্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ম্যাচ শেষের হাতাহাতি, প্রখ্যাত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আইশোস্পিডের প্রতি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ এবং সমর্থকদের আটকের ঘটনার পরও ইনফান্তিনো পুরো টুর্নামেন্টকে সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত বলে দাবি করেন। সমালোচকদের উদ্দেশে ফিফা প্রধান শেষ করেন এক আবেগঘন বার্তায়। তিনি বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং ঘৃণা না ছড়িয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে খেলাটির আবেগ ও সৌন্দর্য উপভোগ করাই উচিত সবার।’

সূত্র- গোল ডট কম

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক করলেন রাকসু ও শিবির নেতারা

বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনা, মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

প্রকাশিত সময় : ০৭:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সদ্যই শেষ হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের আসরে রেফারিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হয়েছে তুমুল সমালোচনা। এসব বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচকদের একহাত নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা এই আসরের সমালোচনা করেছেন, তারা মূলত ‘ঘৃণায় আচ্ছন্ন’ ছিলেন।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রামে ১৫টি স্লাইডের একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো, যা পরবর্তীতে ফিফার অফিসিয়াল পেজ থেকেও প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের অখণ্ডতা ও আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিক ও সমালোচকদের একহাত নিয়ে তিনি দাবি করেন, টুর্নামেন্টটি শতভাগ নিরাপদ ও সুরক্ষিত ছিল এবং এতে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো জানান, কিছু ক্ষেত্রে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা বা রাজনৈতিক বিতর্কের মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও, ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা প্রায় ৭০ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতি এবং টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। তিনি বলেন, নেতিবাচকতা বা মিথ্যা গুজব না ছড়িয়ে তারা যেন ধ্যান, প্রার্থনা কিংবা ফুটবল ম্যাচ উপভোগের মাধ্যমে নিজেদের মানসিক শান্তি খুঁজে নেন।ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘যারা কলম ও কাগজের আড়ালে বসে ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, আমরা ফিফাতে সামনের সারিতে থেকে বিশ্বের সেরা আয়োজনটি উপহার দিচ্ছি।’ ফুটবল বিশ্বকে এক করে—এই বার্তা দিয়ে তিনি সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন এবং সবার প্রতি ভালোবাসা জানান।

৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো ইরান ও সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ফিফা দুটি দেশের মধ্যে ফুটবলকে কেন্দ্র করে সেতু বন্ধন তৈরি করেছে। ফিফা সভাপতি সফলতা দাবি করলেও টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।

ইনফান্তিনোর দাবির বিপরীতে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই নিজ দলকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিপীড়িত দল হিসেবে অভিহিত করেন। ভিসা বিলম্ব, কর্মকর্তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তরে বাধ্য হওয়াসহ নানা লজিস্টিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে দলটিকে। মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা ফিফা স্থগিত করলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফা ফিফার এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ও অন্যায্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ম্যাচ শেষের হাতাহাতি, প্রখ্যাত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আইশোস্পিডের প্রতি বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ এবং সমর্থকদের আটকের ঘটনার পরও ইনফান্তিনো পুরো টুর্নামেন্টকে সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত বলে দাবি করেন। সমালোচকদের উদ্দেশে ফিফা প্রধান শেষ করেন এক আবেগঘন বার্তায়। তিনি বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং ঘৃণা না ছড়িয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে খেলাটির আবেগ ও সৌন্দর্য উপভোগ করাই উচিত সবার।’

সূত্র- গোল ডট কম