২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক যাত্রার পর ভবিষ্যত স্কোয়াড গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন দলটির ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে তার পরিকল্পনায় নেই সেলেসাওদের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার নেইমার। কেমন হতে যাচ্ছে নেইমারবিহীন আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিল?
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছুটি শেষে রিও ডি জেনেইরোতে ফেডারেশনের সদর দপ্তরে ফিরে কর্মকর্তাদের ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আনচেলত্তি। সেখানে আগামী কয়েক বছরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ ইতালিয়ান কোচের মূল লক্ষ্য এখন নতুন প্রজন্মের ব্রাজিল দল গড়ে তোলা।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক ছিলেন আনচেলত্তি। ম্যাচ ফিটনেসের অভাবের কথা একাধিকবার উল্লেখ করলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার মূল্য দিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ দলে জায়গা দেন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ডকে। তবে পুরো টুর্নামেন্টে তার ভূমিকা ছিল সীমিত। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে খেলেছিলেন, আর নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আবেগাপ্লুত নেইমার বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানেই শেষ। এখান থেকেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’ এই বক্তব্যের পরই কার্যত জাতীয় দল থেকে তার বিদায়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।
এদিকে ২০৩০ এর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা নতুন একটি দল গঠন শুরু করব। তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করব, তাদের সুযোগ দেব। তবে বিশ্বকাপে থাকা যেসব খেলোয়াড় এখনও জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিতে পারে, তাদেরও বাদ দেওয়া হবে না।’
সিবিএফ জানিয়েছে, জাতীয় দলের সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলগুলোর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি আনচেলত্তি ও তার সহকারীরা ব্রাজিলিয়ান লিগ, কোপা দো ব্রাজিল এবং বিদেশি লিগগুলোতে নিয়মিত ম্যাচ দেখে সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের পর্যবেক্ষণ করবেন
বিশ্বকাপের পর আগামী সেপ্টেম্বর ফিফা উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ওই সফরে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এরপর নভেম্বরে আরেকটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো থাকলেও ব্রাজিলের মূল লক্ষ্য এখন ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলা।

রিপোর্টারের নাম 
























