শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েতে ইরানের ব্যাপক হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে কুয়েতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির সেনাবাহিনী একথা জানিয়ে বলে, তারা ইরান থেকে আসা একাধিক শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে কাজ করছে।

হামলার পর কুয়েতের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের যেসব শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার কারণে হতে পারে।

এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন।

‘আর খুব বেশি সময় চলবে না’
বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না যুদ্ধ আর খুব বেশি সময় চলবে। ইরান আর কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাকে ‘খুবই ব্যাপক’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো সময়’ আরও সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র জর্ডান ও বাহরাইনও লক্ষ্যবস্তু হয়।

সংঘাত সীমিত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ সহযোগীরা চাপ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ইরান সংঘাতকে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করছেন।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এর অন্যতম লক্ষ্য হলো যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ক্ষতি সীমিত রাখা। কারণ ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুয়েতে ইরানের ব্যাপক হামলা

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে কুয়েতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির সেনাবাহিনী একথা জানিয়ে বলে, তারা ইরান থেকে আসা একাধিক শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে কাজ করছে।

হামলার পর কুয়েতের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের যেসব শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার কারণে হতে পারে।

এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন।

‘আর খুব বেশি সময় চলবে না’
বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না যুদ্ধ আর খুব বেশি সময় চলবে। ইরান আর কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাকে ‘খুবই ব্যাপক’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো সময়’ আরও সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র জর্ডান ও বাহরাইনও লক্ষ্যবস্তু হয়।

সংঘাত সীমিত রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ সহযোগীরা চাপ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ইরান সংঘাতকে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করছেন।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এর অন্যতম লক্ষ্য হলো যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ক্ষতি সীমিত রাখা। কারণ ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।