শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ

হিমবাহ ধস ও পরবর্তী আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অনেক অক্ষত বাড়িও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। চীন সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি পুরো জনপদ পলি ও কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে অথবা কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আর বাড়িঘর নির্মাণ করা হবে না। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিরাপদ নতুন এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে ‘আপার ত্রিশূলী-১’ প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ড্রোন, স্নিফার ডগ, শব্দতরঙ্গ শনাক্তকারী সরঞ্জাম ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্য শ্রমিকদের সন্ধান করা হচ্ছে।

দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে শিশুদের শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আশপাশের নিরাপদ ভবনে শিশুদের পাঠদান পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা।

ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল সরকার।

পরিকল্পিত এই ব্যবস্থায় ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বিত করে আন্তর্জাতিক মানের একটি সতর্কীকরণ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্যোগের আগাম সংকেত দ্রুত শনাক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নেপালে ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হিমবাহ ধস ও পরবর্তী আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অনেক অক্ষত বাড়িও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৪ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ। চীন সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি পুরো জনপদ পলি ও কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে অথবা কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আর বাড়িঘর নির্মাণ করা হবে না। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিরাপদ নতুন এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে ‘আপার ত্রিশূলী-১’ প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ড্রোন, স্নিফার ডগ, শব্দতরঙ্গ শনাক্তকারী সরঞ্জাম ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা ব্যবহার করে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্য শ্রমিকদের সন্ধান করা হচ্ছে।

দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে শিশুদের শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আশপাশের নিরাপদ ভবনে শিশুদের পাঠদান পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা।

ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল সরকার।

পরিকল্পিত এই ব্যবস্থায় ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বিত করে আন্তর্জাতিক মানের একটি সতর্কীকরণ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্যোগের আগাম সংকেত দ্রুত শনাক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স