বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : রিজভী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সরকারের তৈরি নয়। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে সংকট সমাধানে সরকার বসে নেই, বরং বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত “সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকারের নিজস্ব ভূমিকা ও উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু সেই উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। লকডাউনের নামে কিংবা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখল করে রাখার হুমকি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। সরকারের প্রতিটি কাজের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার তার ভুল-ত্রুটি বুঝতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। একইভাবে বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ওই পথে বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচল করে এবং বাংলাদেশের আমদানি করা এলএনজির বড় একটি অংশও এ পথ দিয়ে আসে।

তিনি বলেন, সমুদ্রপথে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও মাইন পাতা হচ্ছে, আবার কার্গো জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানিনির্ভর একটি দেশের জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা, বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস দেওয়া, কলকারখানা চালানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়; এর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও গভীরভাবে জড়িত। তাই সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার অতীতের ব্যর্থতার কথা বলে চুপ করে বসে নেই। সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য পার্শ্ববর্তী ও নিকটবর্তী দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং সেটি মেরামতের কাজ চলছে। একদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা, অন্যদিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি—দুই কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রিজভী বলেন, এই সংকট সরকারের কার্যক্রমের বাইরের বাস্তবতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অথচ বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি সরকারের সমালোচনা করে, তাহলে শুধু সমস্যা তুলে ধরলেই হবে না; সংকট সমাধানের পথও দেখাতে হবে। আমরা বলেছি, আপনারা সমাধানের একটি রূপরেখা দেন, সমাধানের পথ বের করেন। বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে।

রিজভী বলেন, সংসদে সম্প্রতি কেউ কেউ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু এর আগে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো মতামত বা সমাধানের প্রস্তাব খুব একটা দেখা যায়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সংকটের পেছনে গত ১৭ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়মের প্রভাবও রয়েছে। আগের সরকার এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। জাতীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : রিজভী

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সরকারের তৈরি নয়। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে সংকট সমাধানে সরকার বসে নেই, বরং বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত “সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকারের নিজস্ব ভূমিকা ও উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু সেই উদ্যোগকে পাশ কাটিয়ে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। লকডাউনের নামে কিংবা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখল করে রাখার হুমকি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। সরকারের প্রতিটি কাজের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার তার ভুল-ত্রুটি বুঝতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। একইভাবে বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ওই পথে বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচল করে এবং বাংলাদেশের আমদানি করা এলএনজির বড় একটি অংশও এ পথ দিয়ে আসে।

তিনি বলেন, সমুদ্রপথে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও মাইন পাতা হচ্ছে, আবার কার্গো জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানিনির্ভর একটি দেশের জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা, বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস দেওয়া, কলকারখানা চালানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়; এর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও গভীরভাবে জড়িত। তাই সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার অতীতের ব্যর্থতার কথা বলে চুপ করে বসে নেই। সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য পার্শ্ববর্তী ও নিকটবর্তী দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং সেটি মেরামতের কাজ চলছে। একদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা, অন্যদিকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি—দুই কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রিজভী বলেন, এই সংকট সরকারের কার্যক্রমের বাইরের বাস্তবতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অথচ বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি সরকারের সমালোচনা করে, তাহলে শুধু সমস্যা তুলে ধরলেই হবে না; সংকট সমাধানের পথও দেখাতে হবে। আমরা বলেছি, আপনারা সমাধানের একটি রূপরেখা দেন, সমাধানের পথ বের করেন। বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে।

রিজভী বলেন, সংসদে সম্প্রতি কেউ কেউ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু এর আগে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো মতামত বা সমাধানের প্রস্তাব খুব একটা দেখা যায়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সংকটের পেছনে গত ১৭ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়মের প্রভাবও রয়েছে। আগের সরকার এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। জাতীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের দেওয়া হয়েছে।