বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ালো

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত আক্রমণের কারণে জুলাইয়ের পর প্রথমবার বুধবার তেলের দাম শত ডলার অতিক্রম করলো। বুধবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায়, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার পর তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে এবং লোহিত সাগরে বিভিন্ন ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে।

গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ২১ মিনিট নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক শূন্য ৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম জুলাই মাসের শেষের দিকের পর আর এতটা বাড়েনি; সে সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অবশ্য কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে দাম আবারো বেড়ে যেতে পারে।

ইরানের পাঁচটি ট্যাঙ্কারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপসাগরে ইরানের রেভিল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সাথে সংশ্লিষ্ট চারটি ট্যাঙ্কার এবং খার্গ দ্বীপের কাছে আরেকটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জবাবে তেহরান জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে—যার বেশিরভাগই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়। ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জাহাজ ও আটটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, জুলাই মাসে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকেই হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে থাকা ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। তারা দাবি করেছে, সৌদি আরব কর্তৃক বন্দর ও বিমানবন্দর অবরোধ এবং সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে। সোমবার তারা অভিযোগ করেছিল, সৌদি আরব আল-হাজম এলাকার একটি কারাগারে বোমা হামলা চালিয়েছে, যাতে ১১ জন নিহত হয়েছে।

এরপর মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। কিন্তু যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়; উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ালো

প্রকাশিত সময় : ০৬:১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত আক্রমণের কারণে জুলাইয়ের পর প্রথমবার বুধবার তেলের দাম শত ডলার অতিক্রম করলো। বুধবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায়, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার পর তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে এবং লোহিত সাগরে বিভিন্ন ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে।

গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ২১ মিনিট নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক শূন্য ৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম জুলাই মাসের শেষের দিকের পর আর এতটা বাড়েনি; সে সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অবশ্য কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে দাম আবারো বেড়ে যেতে পারে।

ইরানের পাঁচটি ট্যাঙ্কারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপসাগরে ইরানের রেভিল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সাথে সংশ্লিষ্ট চারটি ট্যাঙ্কার এবং খার্গ দ্বীপের কাছে আরেকটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জবাবে তেহরান জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে—যার বেশিরভাগই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়। ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জাহাজ ও আটটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, জুলাই মাসে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকেই হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে থাকা ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। তারা দাবি করেছে, সৌদি আরব কর্তৃক বন্দর ও বিমানবন্দর অবরোধ এবং সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে। সোমবার তারা অভিযোগ করেছিল, সৌদি আরব আল-হাজম এলাকার একটি কারাগারে বোমা হামলা চালিয়েছে, যাতে ১১ জন নিহত হয়েছে।

এরপর মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। কিন্তু যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়; উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।