বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, আহত ৭৩

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবারের এ হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে ছয় মাসে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার সক্ষমতা সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন কমানোর উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে। কয়েক দফা বিরতির পর সংঘাতটি আবারও বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র হয়ে উঠেছে।

গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আশপাশের জলসীমায় ইরান এবং তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যে জাহাজকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। এর পর ইরান সতর্ক করে দেয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ—হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটল। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় দেশটির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীসহ জরুরি সেবার বিভিন্ন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মোট ৭৩ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হুতিদের মোকাবিলায় জোট প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সব পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ এবং দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই গোষ্ঠীটি সৌদি সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজও এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধ। ফলে চলতি সপ্তাহে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচলও কমে গেছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন ‘সীমিত এলাকা’ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলের জন্য নতুন একটি নৌপথের মানচিত্র প্রকাশের কথাও জানিয়েছে তেহরান। তবে এগুলো ঠিক কবে প্রকাশ করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যে এলাকা থেকে কার্যকর হয়েছে, নতুন সীমিত অঞ্চল সেখান থেকেই শুরু হবে। পরে তা উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত করা হবে। ওই অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া আরেক বার্তায় রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ওয়াশিংটনের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপের জবাবে পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক বর্জন অঞ্চল তৈরি এবং তা অবরোধের সীমারেখা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক কৌশলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

রেজায়ির বক্তব্যে সম্ভবত কাসেম বসির নামের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং হামলা এড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টানা সামরিক অভিযানে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা দেশটির অর্থনীতিতেও সংকট আরও গভীর হয়েছে। তবে তেহরানের হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে, বিশেষ করে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচল করলে, হুমকির মুখে ফেলা সম্ভব। উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশকেও একইভাবে হামলার হুমকি দিতে পারে ইরান।

সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে ওই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজকে বাধাগ্রস্ত বা হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা ইরানের হাতে থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কম থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ ও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে ট্রাম্প যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আশাবাদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম দ্রুত ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তাঁর পূর্বাভাস, প্রতি গ্যালন তেলের দাম শেষ পর্যন্ত ৩ ডলারে নেমে আসতে পারে এবং পরে তা ২ ডলারের নিচেও যেতে পারে। একই পোস্টে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, সবকিছু দ্রুত ঘটবে এবং ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, আহত ৭৩

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবারের এ হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে ছয় মাসে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার সক্ষমতা সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন কমানোর উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে। কয়েক দফা বিরতির পর সংঘাতটি আবারও বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র হয়ে উঠেছে।

গত সপ্তাহে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আশপাশের জলসীমায় ইরান এবং তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যে জাহাজকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। এর পর ইরান সতর্ক করে দেয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ—হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটল। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় দেশটির কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীসহ জরুরি সেবার বিভিন্ন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মোট ৭৩ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হুতিদের মোকাবিলায় জোট প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সব পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ এবং দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই গোষ্ঠীটি সৌদি সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজও এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধ। ফলে চলতি সপ্তাহে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচলও কমে গেছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন ‘সীমিত এলাকা’ ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলের জন্য নতুন একটি নৌপথের মানচিত্র প্রকাশের কথাও জানিয়েছে তেহরান। তবে এগুলো ঠিক কবে প্রকাশ করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যে এলাকা থেকে কার্যকর হয়েছে, নতুন সীমিত অঞ্চল সেখান থেকেই শুরু হবে। পরে তা উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত করা হবে। ওই অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া আরেক বার্তায় রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ওয়াশিংটনের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপের জবাবে পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক বর্জন অঞ্চল তৈরি এবং তা অবরোধের সীমারেখা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক কৌশলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

রেজায়ির বক্তব্যে সম্ভবত কাসেম বসির নামের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং হামলা এড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টানা সামরিক অভিযানে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা দেশটির অর্থনীতিতেও সংকট আরও গভীর হয়েছে। তবে তেহরানের হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে, বিশেষ করে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচল করলে, হুমকির মুখে ফেলা সম্ভব। উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশকেও একইভাবে হামলার হুমকি দিতে পারে ইরান।

সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে ওই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজকে বাধাগ্রস্ত বা হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা ইরানের হাতে থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কম থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ ও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে ট্রাম্প যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আশাবাদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম দ্রুত ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তাঁর পূর্বাভাস, প্রতি গ্যালন তেলের দাম শেষ পর্যন্ত ৩ ডলারে নেমে আসতে পারে এবং পরে তা ২ ডলারের নিচেও যেতে পারে। একই পোস্টে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, সবকিছু দ্রুত ঘটবে এবং ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।