বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী কর্মীদের সরিয়ে রাখার অভিযোগ, প্রতিবাদের মুখে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

নারী কর্মীদের দায়িত্বস্থল থেকে সরিয়ে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্সের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কর্মীরা বিক্ষোভ করলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, শনিবার একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের ব্যক্তিগত সফরের সময় আইফেল টাওয়ারে দায়িত্ব পালন করা নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়। তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা।

প্রায় ১০০ সদস্যের বিএএসপির (বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা) প্রতিনিধিদলের ওই সফরকে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়।

এর একদিন পর, রোববার প্যারিসের উপকণ্ঠে ফ্রান্সের প্রথম বড় আকারের বিএপিএস হিন্দু মন্দির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন।

আইফেল টাওয়ারের ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি টাওয়ার পরিদর্শনে আসার আগে নারী কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গা ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে পুরুষ কর্মীদের অবস্থান করতে বলা হয়।

ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আসার সময় নারী কর্মীদের দায়িত্বস্থল থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের রাখা হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই ঘটনাটির বিষয়ে জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের অনুরোধের পর নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, এমন কোনো শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারও দ্রুত ও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাটির সমালোচনা করে বলেছেন, বিদেশি কোনো অতিথিকে সন্তুষ্ট করতে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তার ভাষায়, ফ্রান্সের সামাজিক ও জনজীবনে নারীরা সমানভাবে অংশ নেন; তাই কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের আড়ালে সরে যেতে বলা উচিত নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নারী কর্মীদের সরিয়ে রাখার অভিযোগ, প্রতিবাদের মুখে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী কর্মীদের দায়িত্বস্থল থেকে সরিয়ে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে ফ্রান্সের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কর্মীরা বিক্ষোভ করলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, শনিবার একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের ব্যক্তিগত সফরের সময় আইফেল টাওয়ারে দায়িত্ব পালন করা নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়। তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা।

প্রায় ১০০ সদস্যের বিএএসপির (বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা) প্রতিনিধিদলের ওই সফরকে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়।

এর একদিন পর, রোববার প্যারিসের উপকণ্ঠে ফ্রান্সের প্রথম বড় আকারের বিএপিএস হিন্দু মন্দির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন।

আইফেল টাওয়ারের ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটি টাওয়ার পরিদর্শনে আসার আগে নারী কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গা ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে পুরুষ কর্মীদের অবস্থান করতে বলা হয়।

ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন রয়টার্সকে বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আসার সময় নারী কর্মীদের দায়িত্বস্থল থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের রাখা হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসইটিই ঘটনাটির বিষয়ে জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের অনুরোধের পর নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, এমন কোনো শর্ত মেনে নেওয়া উচিত হয়নি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারও দ্রুত ও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাটির সমালোচনা করে বলেছেন, বিদেশি কোনো অতিথিকে সন্তুষ্ট করতে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তার ভাষায়, ফ্রান্সের সামাজিক ও জনজীবনে নারীরা সমানভাবে অংশ নেন; তাই কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের আড়ালে সরে যেতে বলা উচিত নয়।