বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর পেয়ে শিক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন শিক্ষক, অতঃপর…

রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি উঠেছে হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের এক পরীক্ষার্থী। খাতা মূল্যায়নের সময় নম্বরটি দেখতে পান পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। পরে গত ১৪ আগস্ট সকালে ফোন করে ওই পরীক্ষার্থীকে নিজের বাসায় যেতে বলেন তিনি।

পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসানের দাবি, বাসায় যাওয়ার পর তাকে জানানো হয়, তার খাতায় ২৫ নম্বর রয়েছে। পরে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। ভুল উত্তরগুলো সংশোধনের পাশাপাশি যেসব প্রশ্নের উত্তর সে দেয়নি, সেগুলোর উত্তরও ফাঁকা জায়গায় লিখে দেওয়া হয়। এরপর তার নম্বর ৫০-এর বেশি হবে বলে তাকে জানানো হয়।

মেহেদী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

মেহেদীর ভাষ্য, ১৪ আগস্ট তিনি রুহুল আমিন নামের এক বন্ধুসহ আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনোদপুর বাজারে যান। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন ওই পরীক্ষক। এরপর তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে উত্তরপত্র বের করা হয়।

মেহেদীর দাবি, তার মোবাইল নম্বর লেখা উত্তরপত্রটি সহজেই পাওয়া গেলেও রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদের উত্তরপত্রও পাওয়া যায়নি। কাজ শেষে পরীক্ষক তাদের আবার বিনোদপুরে পৌঁছে দেন।

এ ঘটনার আগে মেহেদীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোনে কথোপকথন হয় বলেও জানা গেছে। কথোপকথনের একটি রেকর্ডে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ এবং বিষয়টি অভিভাবকদের না জানানোর বিষয়ে কথা শোনা যায়। সেখানে পরীক্ষককে আরও পরীক্ষার্থী নিয়ে আসার কথাও বলতে শোনা যায়।

মেহেদী আরও দাবি করেন, পরীক্ষক তার মোবাইল নিয়ে নিজের নম্বরটি মুছে দেন। পরে তিনি ওই পরীক্ষকের পরিচয়ও জানতে পারেন।

এদিকে পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তিনি জানান, গাড়িটি অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে মোটরসাইকেলটি কয়েকবার হাতবদল হয়ে বর্তমানে রফিকুল ইসলাম সেন্টুর কাছে রয়েছে। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয় বলে জানা গেছে।

৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। স্থানীয় একজন ওই শিক্ষকের ছবি দেখে তাকে সেকেন্দার আলী হিসেবে শনাক্ত করেন।

পরে সেকেন্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ফোনকলের রেকর্ড ও ছবি দেখানো হলেও তিনি অভিযোগ স্বীকার করেননি।

হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল বলেন, সেকেন্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন। তবে তিনি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য তার জানা নেই। শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে বলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর পেয়ে শিক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন শিক্ষক, অতঃপর…

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি উঠেছে হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের এক পরীক্ষার্থী। খাতা মূল্যায়নের সময় নম্বরটি দেখতে পান পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। পরে গত ১৪ আগস্ট সকালে ফোন করে ওই পরীক্ষার্থীকে নিজের বাসায় যেতে বলেন তিনি।

পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসানের দাবি, বাসায় যাওয়ার পর তাকে জানানো হয়, তার খাতায় ২৫ নম্বর রয়েছে। পরে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। ভুল উত্তরগুলো সংশোধনের পাশাপাশি যেসব প্রশ্নের উত্তর সে দেয়নি, সেগুলোর উত্তরও ফাঁকা জায়গায় লিখে দেওয়া হয়। এরপর তার নম্বর ৫০-এর বেশি হবে বলে তাকে জানানো হয়।

মেহেদী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

মেহেদীর ভাষ্য, ১৪ আগস্ট তিনি রুহুল আমিন নামের এক বন্ধুসহ আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনোদপুর বাজারে যান। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন ওই পরীক্ষক। এরপর তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে উত্তরপত্র বের করা হয়।

মেহেদীর দাবি, তার মোবাইল নম্বর লেখা উত্তরপত্রটি সহজেই পাওয়া গেলেও রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদের উত্তরপত্রও পাওয়া যায়নি। কাজ শেষে পরীক্ষক তাদের আবার বিনোদপুরে পৌঁছে দেন।

এ ঘটনার আগে মেহেদীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোনে কথোপকথন হয় বলেও জানা গেছে। কথোপকথনের একটি রেকর্ডে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ এবং বিষয়টি অভিভাবকদের না জানানোর বিষয়ে কথা শোনা যায়। সেখানে পরীক্ষককে আরও পরীক্ষার্থী নিয়ে আসার কথাও বলতে শোনা যায়।

মেহেদী আরও দাবি করেন, পরীক্ষক তার মোবাইল নিয়ে নিজের নম্বরটি মুছে দেন। পরে তিনি ওই পরীক্ষকের পরিচয়ও জানতে পারেন।

এদিকে পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তিনি জানান, গাড়িটি অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে মোটরসাইকেলটি কয়েকবার হাতবদল হয়ে বর্তমানে রফিকুল ইসলাম সেন্টুর কাছে রয়েছে। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয় বলে জানা গেছে।

৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। স্থানীয় একজন ওই শিক্ষকের ছবি দেখে তাকে সেকেন্দার আলী হিসেবে শনাক্ত করেন।

পরে সেকেন্দার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ফোনকলের রেকর্ড ও ছবি দেখানো হলেও তিনি অভিযোগ স্বীকার করেননি।

হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল বলেন, সেকেন্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন। তবে তিনি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য তার জানা নেই। শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে বলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।