ঢাকার চাঁনখারপুলের একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার সহপাঠীরা।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁনখারপুল এলাকার পি কে গাঙ্গুলি লেইনের একটি ভবনের চতুর্থ তলার একটি মেস থেকে অনিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ত্রিমাত্রিক ও নকশা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।
অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে। বর্তমানে তার পরিবার সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকে।
অনিকের সহপাঠী সুবাস পাল বলেন, “ঘরের ফ্যান ঝোলানোর রডের সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় অনিককে পাওয়া যায়। পরে সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
“ঘটনা শোনার পরপরই আমি মেডিকেলে যাই। তার পরিবারকে জানানো হলে তারা ঢাকার পথে রওয়ানা দেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আত্মহত্যা হিসেবেই ধারণা করছে। সকল প্রক্রিয়া সেরে মৃতদেহ সৎকারের জন্য গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে”, যোগ করেন সুবাস।
ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পায়েল দাস বলেন, “অনিক চুপচাপ স্বভাবের ছিল। প্রায় সময়ই কানে হেডফোন লাগিয়ে দীর্ঘ সময় নিজের মতো রুমের মধ্যে থাকত। মেসমেটরা দুপুরে নক করে ওর সাড়া না পেয়ে সেটি স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছিল। আর ওর রুমমেটও বাসায় ছিল না, সে ভারতে গেছে।”
রাতে অনিককে ফোনে না পেয়ে তার বান্ধবী মেসমেটদের বিষয়টি জানান। এরপর দীর্ঘক্ষণ দরজায় নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে অনিককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, এটা আত্মহত্যার ঘটনা। তার পরিবারের সদস্যরা আসছেন। তারা আসার পর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

রিপোর্টারের নাম 





















