বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহরুখ খানকে আজমির শরিফের ফকির কী বলেছিলেন?

বলিউড বাদশা শাহরুখ খান তারকা অভিনেতা হওয়ার আগে আজমির শরিফে গিয়ে ৫ হাজার রুপি খুইয়েছিলেন। মূলত, মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চাইতে আজমির শরিফ দর্শনে গিয়ে এমন সংকটে পড়েছিলেন। সেখানে শাহরুখ খানকে একজন ফকির বলেছিলেন—“তুমি ৫ হাজার রুপি হারিয়েছ। কিন্তু ৫০০ কোটি রুপি আয় করবে।”

আজমির শরিফের ঘটনা বর্ণনা করে শাহরুখ খান বলেন, “আমার মা খুব অসুস্থ ছিলেন। তাই দোয়া করতে মায়ের সঙ্গে আজমির শরিফ গিয়েছিলাম। আমরা সেখানে দেওয়ার জন্য একটি চাদর নিয়ে গিয়েছিলাম এবং একটি মানত করেছিলাম। নিরাপদে রাখার জন্য মা আমাকে ৫ হাজার রুপি দিয়েছিলেন।”

শাহরুখ খান পরে বুঝতে পারেন, সেই টাকা আর তার কাছে নেই। ফলে খুঁজতে শুরু করেন। তখন দরগাহে বসে থাকা একজন ফকির তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কিছু হারিয়েছেন কি না। এরপর ফকির জানতে চান, ৫ হাজার রুপি কি না।

ফকিরের কথা শুনে বিস্মিত হন শাহরুখ খান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়ে ভাবলাম—তিনি কীভাবে জানলেন! তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি এখানে এসেছ, খালি হাতে ফিরবে না। তুমি ৫ হাজার রুপি হারিয়েছ। কিন্তু ৫০০ কোটি রুপি আয় করবে।”

সবসময় এ ধরনের বিষয়ে বিশ্বাস করতেন না শাহরুখ খান। কিন্তু ওই ঘটনা তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। শাহরুখ খান বলেন, “কখনো কখনো আমি এসব বিষয়ে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই শিক্ষিত। আমরা মনে করি, এসব বিষয় বাস্তবে ঘটতে পারে না। কিন্তু আমার সঙ্গে এটা ঘটেছিল। তিনি ঠিকই বলেছিলেন। আজমির শরিফের আশীর্বাদ আমার ওপর রয়েছে।”

ব্যক্তিগত জীবনে শাহরুখ অনেক অর্থ-খ্যাতি পেয়েছেন। তবে অর্থের চেয়ও অনেক বড় আজমির শরিফের আশীর্বাদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা অর্থের বিষয় নয়। আমি অনেক খ্যাতি পেয়েছি, জীবনে অনেক ভালো জিনিস পেয়েছি। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম মায়ের জন্য দোয়া চাইতে। মা এখন আর আমার সঙ্গে নেই। কিন্তু তার এবং আজমির শরিফের আশীর্বাদ এখনো আমার সঙ্গে রয়েছে।”

আজমির শরিফ
মইনুদ্দিন চিশতি দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামি ঐতিহ্যের সুপরিচিত এক বুজুর্গ। সুলতান-উল-হিন্দ এবং গরিবে নেওয়াজও বলা হয় এই সাধককে। চিশতিয়া তরিকার একজন গুরু তিনি। জানা যায়, মইনুদ্দিন চিশতিকে দক্ষিণ এশিয়ায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করতে বলেছিলেন হজরত আবদুল কাদির জিলানী। তারই ধারাবাহিকতায় পারস্যে পরিবারের যাবতীয় ধনসম্পদ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় পাড়ি জমান। সর্বশেষ ৫২ বছর বয়সে আজমিরে থিতু হন। ১২৩৫ সালে এখানেই মারা যান। দিল্লিতে তখন শাসক ছিলেন শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ।

শাহরুখ এখন কত টাকার মালিক?
শাহরুখ খান যশ-খ্যাতির পাশাপাশি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। ২০২৫ সালের হুরুনের তালিকা অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। ফলে বিলিয়নিয়ারের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। তার সম্পদের উৎস শুধু সিনেমা নয়; বরং প্রযোজনা সংস্থা, আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগ। ২০২৬ সালে হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট প্রকাশ করে। এ তালিকায় শাহরুখের সম্পদ ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা) উল্লেখ করা হয়েছে; যা তাকে ভারতের অন্যতম সফল তারকা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

*ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শাহরুখ খানকে আজমির শরিফের ফকির কী বলেছিলেন?

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বলিউড বাদশা শাহরুখ খান তারকা অভিনেতা হওয়ার আগে আজমির শরিফে গিয়ে ৫ হাজার রুপি খুইয়েছিলেন। মূলত, মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চাইতে আজমির শরিফ দর্শনে গিয়ে এমন সংকটে পড়েছিলেন। সেখানে শাহরুখ খানকে একজন ফকির বলেছিলেন—“তুমি ৫ হাজার রুপি হারিয়েছ। কিন্তু ৫০০ কোটি রুপি আয় করবে।”

আজমির শরিফের ঘটনা বর্ণনা করে শাহরুখ খান বলেন, “আমার মা খুব অসুস্থ ছিলেন। তাই দোয়া করতে মায়ের সঙ্গে আজমির শরিফ গিয়েছিলাম। আমরা সেখানে দেওয়ার জন্য একটি চাদর নিয়ে গিয়েছিলাম এবং একটি মানত করেছিলাম। নিরাপদে রাখার জন্য মা আমাকে ৫ হাজার রুপি দিয়েছিলেন।”

শাহরুখ খান পরে বুঝতে পারেন, সেই টাকা আর তার কাছে নেই। ফলে খুঁজতে শুরু করেন। তখন দরগাহে বসে থাকা একজন ফকির তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কিছু হারিয়েছেন কি না। এরপর ফকির জানতে চান, ৫ হাজার রুপি কি না।

ফকিরের কথা শুনে বিস্মিত হন শাহরুখ খান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়ে ভাবলাম—তিনি কীভাবে জানলেন! তিনি আমাকে বললেন, ‘তুমি এখানে এসেছ, খালি হাতে ফিরবে না। তুমি ৫ হাজার রুপি হারিয়েছ। কিন্তু ৫০০ কোটি রুপি আয় করবে।”

সবসময় এ ধরনের বিষয়ে বিশ্বাস করতেন না শাহরুখ খান। কিন্তু ওই ঘটনা তার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। শাহরুখ খান বলেন, “কখনো কখনো আমি এসব বিষয়ে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই শিক্ষিত। আমরা মনে করি, এসব বিষয় বাস্তবে ঘটতে পারে না। কিন্তু আমার সঙ্গে এটা ঘটেছিল। তিনি ঠিকই বলেছিলেন। আজমির শরিফের আশীর্বাদ আমার ওপর রয়েছে।”

ব্যক্তিগত জীবনে শাহরুখ অনেক অর্থ-খ্যাতি পেয়েছেন। তবে অর্থের চেয়ও অনেক বড় আজমির শরিফের আশীর্বাদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা অর্থের বিষয় নয়। আমি অনেক খ্যাতি পেয়েছি, জীবনে অনেক ভালো জিনিস পেয়েছি। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম মায়ের জন্য দোয়া চাইতে। মা এখন আর আমার সঙ্গে নেই। কিন্তু তার এবং আজমির শরিফের আশীর্বাদ এখনো আমার সঙ্গে রয়েছে।”

আজমির শরিফ
মইনুদ্দিন চিশতি দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামি ঐতিহ্যের সুপরিচিত এক বুজুর্গ। সুলতান-উল-হিন্দ এবং গরিবে নেওয়াজও বলা হয় এই সাধককে। চিশতিয়া তরিকার একজন গুরু তিনি। জানা যায়, মইনুদ্দিন চিশতিকে দক্ষিণ এশিয়ায় গিয়ে ইসলাম প্রচার করতে বলেছিলেন হজরত আবদুল কাদির জিলানী। তারই ধারাবাহিকতায় পারস্যে পরিবারের যাবতীয় ধনসম্পদ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় পাড়ি জমান। সর্বশেষ ৫২ বছর বয়সে আজমিরে থিতু হন। ১২৩৫ সালে এখানেই মারা যান। দিল্লিতে তখন শাসক ছিলেন শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ।

শাহরুখ এখন কত টাকার মালিক?
শাহরুখ খান যশ-খ্যাতির পাশাপাশি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। ২০২৫ সালের হুরুনের তালিকা অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। ফলে বিলিয়নিয়ারের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। তার সম্পদের উৎস শুধু সিনেমা নয়; বরং প্রযোজনা সংস্থা, আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগ। ২০২৬ সালে হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট প্রকাশ করে। এ তালিকায় শাহরুখের সম্পদ ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা) উল্লেখ করা হয়েছে; যা তাকে ভারতের অন্যতম সফল তারকা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

*ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে