ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত হওয়ার পর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কার্যক্রম শুরু হয়। আত্মপ্রকাশের পর প্রথম অভিযানেই আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবি সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর মুজাহিদ ‘রাকিব’ ছদ্মনামে ফেসবুকের মাধ্যমে একটি পেশাদার নৃত্যশিল্পী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওই দলের তিন সদস্য- ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই নারী এবং সাঈদ হোসেন নামের এক পুরুষ ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে তাদের নৌকায় করে তিতাস নদীর একটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যার পর নৌকার ছাউনিতে সাঈদ হোসেনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এ সময় দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে নাসিরনগরের গোকর্ণঘাট এলাকায় তিনজনকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর তিনজন নাসিরনগর থানায় যান। ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় পরে তারা সরাইল থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, “এ মামলার একজন আসামি সাত্য বিশ্বাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তের স্বার্থে মামলার অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।”
এসআরবি সূত্র জানায়, তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজাহিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বিয়ানীবাজারে তার নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির অধিনায়ক বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজাহিদ ফেসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের অনুষ্ঠানে নেওয়ার জন্য ২৯ হাজার টাকার চুক্তির কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন সহযোগী থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























