শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই : জামায়াত আমির

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালী বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আট দফা মানা হলে এক দফার দরকার নেই। কিন্তু তা মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আট দফা মানা না হলে এক দফার ডাক দিতে আমরা বাধ্য হব। লড়াই করে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।

ঢাকা থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাওয়া লংমার্চের বহরটি বগুড়ায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা স্বাগত জানান। মাটিডালী বিমান মোড়ের পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা লংমার্চে যুক্ত হন।

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছে। আপনারা সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও চেয়েছি। কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেননি।

জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও চরমে পৌঁছেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। গ্রামে তার লম্বা বলে বিদ্যুৎ চলে যায়! এমন অবাস্তব কথা লজ্জার।

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নতুন সংবিধানে লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভার নম্বর দ্বিগুণ করা হচ্ছে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য। ২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণেরা চাকরির অধিকার ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে জীবন দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তারা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত।

লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।

পথসভায় বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কর্নেল অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, আখতার হোসেন এমপি প্রমুখ।

এর আগে লংমার্চের বহরটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। লংমার্চে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। মাটিডালীর পথসভা শেষে গাড়িবহরটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই : জামায়াত আমির

প্রকাশিত সময় : ০৯:১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালী বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আট দফা মানা হলে এক দফার দরকার নেই। কিন্তু তা মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আট দফা মানা না হলে এক দফার ডাক দিতে আমরা বাধ্য হব। লড়াই করে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।

ঢাকা থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাওয়া লংমার্চের বহরটি বগুড়ায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা স্বাগত জানান। মাটিডালী বিমান মোড়ের পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা লংমার্চে যুক্ত হন।

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছে। আপনারা সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও চেয়েছি। কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেননি।

জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও চরমে পৌঁছেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। গ্রামে তার লম্বা বলে বিদ্যুৎ চলে যায়! এমন অবাস্তব কথা লজ্জার।

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নতুন সংবিধানে লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভার নম্বর দ্বিগুণ করা হচ্ছে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য। ২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণেরা চাকরির অধিকার ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে জীবন দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তারা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত।

লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।

পথসভায় বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কর্নেল অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, আখতার হোসেন এমপি প্রমুখ।

এর আগে লংমার্চের বহরটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। লংমার্চে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। মাটিডালীর পথসভা শেষে গাড়িবহরটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।