রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভাত চুরির’ অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির।

নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। নগরীর বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গভীর রাতে আজমুল হোসেন নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকতেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে—সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ওসি ইকবাল হোসেন আরও জানান, নিহতের পরিবার থানায় রয়েছে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনগতভাবে যা যা করা যায়, আমরা তাই করব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটির পুরোটা ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।

মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন এবং বহিরাগত কয়েকজন তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।

পরে ছাদ থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পর তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর মেসের অন্য ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, আজমুলের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দুই পাও ভাঙা ছিল।

মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগতরা তাকে মারধর করেন। তিনি নিষেধ করলেও তারা শোনেননি।

মেসের পেছনের ভবনের এক নারী বাসিন্দা বলেন, শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনতে পান। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখেন, বাড়ির সামনে গলিতে একটি ছেলে পড়ে আছে। পরে মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে আজমুল। এক বছর আগে লেখাপড়ার জন্য বাড়ি থেকে খুলনায় আসে। আজমুল ২০২৫ সালে ও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি যায়।

তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনায় আসেন আজমুল। রাত ৯টার দিকে ফোনে তাদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন সে বলেছিল, আমি ভালো আছি। তোমরা আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।

তিনি বলেন, রাত ১২টার পরে আমার ছেলের মোবাইল ফোন দিয়ে অন্য একটি ছেলে ফোন দেয়। বলে, আপনার ছেলে ঝামেলা করেছে। তাকে পেতে হলে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আসেন। টাকা না আনলে আপনার ছেলেকে পাবেন না। তখন আমি বলি, আমরা গরিব মানুষ, এক লাখ টাকা কোথায় পাব? তখন সে বলে, আপনি কী করেন? আমি তাকে বলি, আমি কৃষিকাজ করি। তখন সেই ছেলে আবার বলে, আপনি দ্রুত চলে আসেন। তখন আমি বলি, আমি ট্রেনে দ্রুত আসছি।

আজমুলের বাবা জানান, সে বলে, আপনি ট্রেনে আসবেন, না বাসে আসবেন, না প্লেনে আসবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। তারপর সকালে এসে দেখি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কুতুব উদ্দিন বলেন, আমি কার কাছে এ বিচার দিব? আমি কারো কাছে বিচার দিব না। আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।

এ বিষয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর আজমুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু জানে না।

তিনি বলেন, আজমুলের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান উপাচার্য।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে, তাই সেখানে সরাসরি আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনাটি জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি।

এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছে হরিণটানা থানা পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘ভাত চুরির’ অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা নগরের একটি ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির।

নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। নগরীর বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

নগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গভীর রাতে আজমুল হোসেন নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি পাঁচতলা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকতেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে—সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ওসি ইকবাল হোসেন আরও জানান, নিহতের পরিবার থানায় রয়েছে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনগতভাবে যা যা করা যায়, আমরা তাই করব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটির পুরোটা ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।

মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন এবং বহিরাগত কয়েকজন তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।

পরে ছাদ থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পর তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর মেসের অন্য ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, আজমুলের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দুই পাও ভাঙা ছিল।

মেসের বুয়া ফাতেমা বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ছিল। তবে শুক্রবার রাতে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের ছাত্র ও বহিরাগতরা তাকে মারধর করেন। তিনি নিষেধ করলেও তারা শোনেননি।

মেসের পেছনের ভবনের এক নারী বাসিন্দা বলেন, শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি জোরে একটি শব্দ শুনতে পান। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখেন, বাড়ির সামনে গলিতে একটি ছেলে পড়ে আছে। পরে মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে আজমুল। এক বছর আগে লেখাপড়ার জন্য বাড়ি থেকে খুলনায় আসে। আজমুল ২০২৫ সালে ও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি যায়।

তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনায় আসেন আজমুল। রাত ৯টার দিকে ফোনে তাদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন সে বলেছিল, আমি ভালো আছি। তোমরা আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।

তিনি বলেন, রাত ১২টার পরে আমার ছেলের মোবাইল ফোন দিয়ে অন্য একটি ছেলে ফোন দেয়। বলে, আপনার ছেলে ঝামেলা করেছে। তাকে পেতে হলে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আসেন। টাকা না আনলে আপনার ছেলেকে পাবেন না। তখন আমি বলি, আমরা গরিব মানুষ, এক লাখ টাকা কোথায় পাব? তখন সে বলে, আপনি কী করেন? আমি তাকে বলি, আমি কৃষিকাজ করি। তখন সেই ছেলে আবার বলে, আপনি দ্রুত চলে আসেন। তখন আমি বলি, আমি ট্রেনে দ্রুত আসছি।

আজমুলের বাবা জানান, সে বলে, আপনি ট্রেনে আসবেন, না বাসে আসবেন, না প্লেনে আসবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। তারপর সকালে এসে দেখি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কুতুব উদ্দিন বলেন, আমি কার কাছে এ বিচার দিব? আমি কারো কাছে বিচার দিব না। আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।

এ বিষয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর আজমুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু জানে না।

তিনি বলেন, আজমুলের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান উপাচার্য।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে, তাই সেখানে সরাসরি আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনাটি জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি।

এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। আজমুলের বাবা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছে হরিণটানা থানা পুলিশ।