রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন নিতে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারা হয় : পুলিশ সুপার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিমকে কৌশলে লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার সিনিয়র পরিচিত কয়েকজন বন্ধু বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার হাতে থাকা আইফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

আটক চারজন হলেন- তুহিন, ফাহাদ, কামরুল ও সিয়াম। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল পর্যায়ক্রমে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে তুহিনের বাসা থেকে ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিখোঁজের জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে জঙ্গলের দিকে যেতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন হত্যার পরিকল্পনা ও আইফোন ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। সিয়ামের সম্পৃক্ততাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তার মা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ ও গন্ধমতি স্কুল মাঠে পৃথক জানাজায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আইফোন নিতে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারা হয় : পুলিশ সুপার

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিমকে কৌশলে লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার সিনিয়র পরিচিত কয়েকজন বন্ধু বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার হাতে থাকা আইফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

আটক চারজন হলেন- তুহিন, ফাহাদ, কামরুল ও সিয়াম। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল পর্যায়ক্রমে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে তুহিনের বাসা থেকে ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিখোঁজের জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে জঙ্গলের দিকে যেতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন হত্যার পরিকল্পনা ও আইফোন ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। সিয়ামের সম্পৃক্ততাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তার মা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ ও গন্ধমতি স্কুল মাঠে পৃথক জানাজায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।