ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া দিল্লিতে আপের প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজকেও আটক করেছে পুলিশ বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ছয়জনকে তার বাসভবনের বাইরে থেকে আটক করেন দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যরা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাদের একটি প্রিজন ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এর মধ্যেই একের পর এক নেতাকে আটকের ঘটনা ঘটে।
এর আগে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকে নামার পরই আটক করা হয়। পরে তাদের পৃথক তিনটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে নেহা বোরাকে আটকের খবরও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৫০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের অন্যতম কারণ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন, যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ ও তল্লাশি জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের কয়েকটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে চলাচলের কথা থাকা ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সিজেপি জানিয়েছে, দলের নেতাদের আটক করা হলেও বিক্ষোভ চলবে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
প্রসঙ্গত, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠন। তবে পুলিশ তাদের ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 





















