শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির বিদায়ি জার্সি রিভার প্লেটের জাদুঘরে

ফুটবলের কিছু মুহূর্ত শেষ হয়েও হয় না শেষ। সময় পেরিয়ে গিয়ে গ্যালারির উল্লাস থেমে যায়।

তবু কিছু স্মৃতি থেকে যায় অমলিন। লিওনেল মেসির বিদায়ি ম্যাচের জার্সিও তেমনি এক আবেগের স্মারক। 

আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই জার্সি এখন রিভার প্লেটের জাদুঘরে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবল ইতিহাসের এই অধ্যায়কে বাঁচিয়ে রাখতেই এমন উদ্যোগ।

এটি শুধু জার্সি নয়, এক কিংবদন্তির দীর্ঘ যাত্রা, অসংখ্য অর্জন আর ভালোবাসার প্রতীক। 

জার্সিটি জাদুঘরে থাকলেও মেসির গল্প কোনো কাচের বাক্সে আটকে থাকার নয়। তার বাঁ পায়ের জাদু, গোলের উল্লাস আর সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্য বেঁচে থাকবে ভক্তদের মনে। সময়ের স্রোত পেরিয়েও মেসি থাকবেন ফুটবলের ইতিহাসে—এক অনন্ত অধ্যায় হয়ে।

 

 

বিদায়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই ছিল মেসির স্পর্শ। বেনিনের বিপক্ষে ৪৮ মিনিটে নেওয়া তার কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তাতে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে শেষ ম্যাচটা গোলে রাঙান এই ডিফেন্ডারও। বক্সের বাইরে থেকে ৬১ মিনিটে করা নিকো পাজের অবিশ্বাস্য গোলেও ছিল মেসির অবদান। তার পাস থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জালের দেখা পান মেসির জার্সির উত্তরসূরি মনে করা এই তারকা।

আর নিজে শেষটা রাঙান ৭১ মিনিটে পেনান্টিতে গোর করে। তাতে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। 

৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মেসির বিদায় ছিল অশ্রু আর ভালোবাসায় মোড়ানো। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার বিদায়ে গ্যালারিতে ছিল ভালোবাসা আর বিষণ্নতা। কেননা বাঁ পায়ের ফুটবল জাদুকরকে আর কখনোই আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে না পাওয়ার হাহাকার। তাতে খেলা দেখতে আসা সমর্থক-ভক্তদের চোখের জল আর কণ্ঠের উল্লাস হয়ে গিয়েছিল একাকার।

 

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথ চলা থামিয়েছেন মেসি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোলের কীর্তি। এমন স্মৃতিময় ম্যাচের পর ১০ নম্বর জার্সি রিভার প্লেটকে  উপহার দেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। জার্সিতে লিখেছেন ভালোবাসার বার্তা। এখন সেটিই স্থান পেয়েছে রিভার প্লেট জাদুঘরে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মেসির বিদায়ি জার্সি রিভার প্লেটের জাদুঘরে

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ফুটবলের কিছু মুহূর্ত শেষ হয়েও হয় না শেষ। সময় পেরিয়ে গিয়ে গ্যালারির উল্লাস থেমে যায়।

তবু কিছু স্মৃতি থেকে যায় অমলিন। লিওনেল মেসির বিদায়ি ম্যাচের জার্সিও তেমনি এক আবেগের স্মারক। 

আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই জার্সি এখন রিভার প্লেটের জাদুঘরে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবল ইতিহাসের এই অধ্যায়কে বাঁচিয়ে রাখতেই এমন উদ্যোগ।

এটি শুধু জার্সি নয়, এক কিংবদন্তির দীর্ঘ যাত্রা, অসংখ্য অর্জন আর ভালোবাসার প্রতীক। 

জার্সিটি জাদুঘরে থাকলেও মেসির গল্প কোনো কাচের বাক্সে আটকে থাকার নয়। তার বাঁ পায়ের জাদু, গোলের উল্লাস আর সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্য বেঁচে থাকবে ভক্তদের মনে। সময়ের স্রোত পেরিয়েও মেসি থাকবেন ফুটবলের ইতিহাসে—এক অনন্ত অধ্যায় হয়ে।

 

 

বিদায়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই ছিল মেসির স্পর্শ। বেনিনের বিপক্ষে ৪৮ মিনিটে নেওয়া তার কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তাতে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে শেষ ম্যাচটা গোলে রাঙান এই ডিফেন্ডারও। বক্সের বাইরে থেকে ৬১ মিনিটে করা নিকো পাজের অবিশ্বাস্য গোলেও ছিল মেসির অবদান। তার পাস থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জালের দেখা পান মেসির জার্সির উত্তরসূরি মনে করা এই তারকা।

আর নিজে শেষটা রাঙান ৭১ মিনিটে পেনান্টিতে গোর করে। তাতে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। 

৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মেসির বিদায় ছিল অশ্রু আর ভালোবাসায় মোড়ানো। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার বিদায়ে গ্যালারিতে ছিল ভালোবাসা আর বিষণ্নতা। কেননা বাঁ পায়ের ফুটবল জাদুকরকে আর কখনোই আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে না পাওয়ার হাহাকার। তাতে খেলা দেখতে আসা সমর্থক-ভক্তদের চোখের জল আর কণ্ঠের উল্লাস হয়ে গিয়েছিল একাকার।

 

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথ চলা থামিয়েছেন মেসি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোলের কীর্তি। এমন স্মৃতিময় ম্যাচের পর ১০ নম্বর জার্সি রিভার প্লেটকে  উপহার দেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। জার্সিতে লিখেছেন ভালোবাসার বার্তা। এখন সেটিই স্থান পেয়েছে রিভার প্লেট জাদুঘরে।