শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংসের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরানের অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিতে চান না। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন আর কেবল প্রেসিডেন্টের হাতে সীমাবদ্ধ নেই। কংগ্রেস চাইলে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেসন ক্রোও স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরানের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা বিষয়টি জানতে পারবেন।’

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল, সেগুলোর সবই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তেহরান থেকে পাঠানো ইরানের একটি পারমাণবিক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।

এদিকে ইরানের অবশিষ্ট অংশ ধ্বংসের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। তার অভিযোগ, প্রায় ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আনসারি লেখেন, ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে ধ্বংস করার হুমকি আবারও দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের বক্তব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

ট্রাম্পের নিজের সিদ্ধান্তে শুরু করা এই যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আনসারির ভাষ্য, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ডেমোক্র্যাটদের উচিত হবে প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধ থামাতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়।’

ট্রাম্প একদিকে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না বলে মন্তব্য করলেও প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন। তার এই বক্তব্যের পরই আনসারি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর ক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের হাতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ক্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রবাহ বন্ধ করার সুযোগও তাদের রয়েছে। তার দাবি, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তাই কংগ্রেস চাইলে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নিতে পারে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রো বলেন, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের অবসান চান। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে দুই দলের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন, কারণ তিনি জানতেন, মার্কিন জনগণের বড় একটি অংশ এমনটাই প্রত্যাশা করে।

ক্রো আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো এখন জরুরি। মার্কিন নাগরিকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংসের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত সময় : ১১:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিতে চান না। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন আর কেবল প্রেসিডেন্টের হাতে সীমাবদ্ধ নেই। কংগ্রেস চাইলে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেসন ক্রোও স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরানের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই আপনারা বিষয়টি জানতে পারবেন।’

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল, সেগুলোর সবই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তেহরান থেকে পাঠানো ইরানের একটি পারমাণবিক প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।

এদিকে ইরানের অবশিষ্ট অংশ ধ্বংসের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। তার অভিযোগ, প্রায় ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আনসারি লেখেন, ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে ধ্বংস করার হুমকি আবারও দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের বক্তব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

ট্রাম্পের নিজের সিদ্ধান্তে শুরু করা এই যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আনসারির ভাষ্য, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ডেমোক্র্যাটদের উচিত হবে প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধ থামাতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়।’

ট্রাম্প একদিকে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না বলে মন্তব্য করলেও প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন। তার এই বক্তব্যের পরই আনসারি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর ক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের হাতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ক্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রবাহ বন্ধ করার সুযোগও তাদের রয়েছে। তার দাবি, এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তাই কংগ্রেস চাইলে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নিতে পারে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রো বলেন, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের অবসান চান। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে দুই দলের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন, কারণ তিনি জানতেন, মার্কিন জনগণের বড় একটি অংশ এমনটাই প্রত্যাশা করে।

ক্রো আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো এখন জরুরি। মার্কিন নাগরিকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।