শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘কেন যে ইংরেজি শিখি নাই’

অনেক আগেই তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বরং এখন সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকার কত নম্বরে থাকবেন সেই আলোচনা চলমান। যার ক্যারিয়ার প্রাপ্তি আর বর্ণাঢ্য সব অর্জনে পরিপূর্ণ, তিনিও এখন পুরোনো সিদ্ধান্তের জন্য গভীর অনুতপ্ত। ইংরেজি না শেখা কিংবা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অক্ষমতা নিয়ে এমন আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন সুপারস্টার তরুণ বয়সেই কেন ইংরেজি শিখলেন না এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।

এমনকি যখন বিখ্যাত কোনো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা হয়, তখন নিজেকে অর্ধমূর্খ বলে গণ্য করেন মেসি। অভাবনীয় ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অক্ষমতা তাকে কুঁড়ে খায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, আমি অনেক বিষয়ে আফসোস করি। তার একটি কিশোর বয়সে কেন ইংরেজি শিখিনি। আমার অন্তত ইংরেজি পড়ার মতো সময় ছিল এবং আমি সেটি করিনি। সেজন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। আমার এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেখানে অবিশ্বাস্য ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে কিন্তু আমি কথা বলতে পারিনি। তখন নিজেকে অর্ধমূর্খ মনে হতো।

আমি সবসময়ই ভাবি কি বোকা আমি এবং কীভাবে নিজের সময় নষ্ট করেছি। সন্তানরাও যেন ভবিষ্যতে এভাবে আক্ষেপে না পোড়ে, তাই তাদের এখন থেকেই দিক-নির্দেশনা দেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল আইকন। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক  বলেন, যখন আপনি বয়সে তরুণ থাকবেন, তখন বুঝতে পারবেন না। আমি সেই কথাগুলো এখন সন্তানদের বলি, পর্যাপ্ত শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, শেখা এবং (ভবিষ্যতের) প্রস্তুতি নেওয়া। আমি সবসময়ই তাদের বলি প্রাপ্ত সুবিধা যেন ভালোভাবে কাজে লাগায়। তারা অবশ্য আমার চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতি পার করছে, যদিও আমারও কোনো কিছুর অভাব ছিল না।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে অবিশ্বাস্য ফুটবলপ্রতিভা নিয়ে আঁতুড়ঘর রোজারিও শহর ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান মেসি। তখন আর্জেন্টাইন ওই অঞ্চলে দুর্যোগ চলছিল। মেসি সেই কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময় (আর্জেন্টিনায় স্কুলে অধ্যয়নের শেষ বছর) দুর্যোগ চলছিল। আমি জানতাম বার্সেলোনার উদ্দেশে এই জায়গা ছেড়ে যাচ্ছি। সেখানকার লা মাসিয়ায় (বার্সেলোনা যুব একাডেমি) অন্যদের সঙ্গে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করি। ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে পিএসজিকে বিদায় দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল ছেড়ে যান মেসি।

তিনি যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। রেকর্ড সর্বোচ্চ আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা বলেন, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে আমার যে কোনো কিছু করার সুযোগ ছিল। পুরো যাত্রায় আমি অনেক অভিজ্ঞতা ও বিষয় শিখেছি। এটিও সত্যি যে ফুটবল জীবন যাপনের একটি উপায়। এটি আপনাকে অনেক কিছু শেখাবে, অনেক মূল্য দেবে। সারা জীবনের একটি বন্ধন গড়ে দেবে, উপযুক্ত জায়গাটি চিনতে হবে আপনার।
স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, আমি খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং সেখানে আমি প্রায় সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতেই খেলেছিলাম। তারপরও আমি মনেপ্রাণে আর্জেন্টাইন। তবে স্পেনে হয়ে খেলার সুযোগটা ছিল এবং সেটা হতেও পারত। কিন্তু আমার সবসময়ের আকাক্সক্ষা ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘কেন যে ইংরেজি শিখি নাই’

প্রকাশিত সময় : ১১:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনেক আগেই তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা বরং এখন সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকার কত নম্বরে থাকবেন সেই আলোচনা চলমান। যার ক্যারিয়ার প্রাপ্তি আর বর্ণাঢ্য সব অর্জনে পরিপূর্ণ, তিনিও এখন পুরোনো সিদ্ধান্তের জন্য গভীর অনুতপ্ত। ইংরেজি না শেখা কিংবা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অক্ষমতা নিয়ে এমন আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন সুপারস্টার তরুণ বয়সেই কেন ইংরেজি শিখলেন না এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।

এমনকি যখন বিখ্যাত কোনো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা হয়, তখন নিজেকে অর্ধমূর্খ বলে গণ্য করেন মেসি। অভাবনীয় ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অক্ষমতা তাকে কুঁড়ে খায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, আমি অনেক বিষয়ে আফসোস করি। তার একটি কিশোর বয়সে কেন ইংরেজি শিখিনি। আমার অন্তত ইংরেজি পড়ার মতো সময় ছিল এবং আমি সেটি করিনি। সেজন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। আমার এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেখানে অবিশ্বাস্য ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে কিন্তু আমি কথা বলতে পারিনি। তখন নিজেকে অর্ধমূর্খ মনে হতো।

আমি সবসময়ই ভাবি কি বোকা আমি এবং কীভাবে নিজের সময় নষ্ট করেছি। সন্তানরাও যেন ভবিষ্যতে এভাবে আক্ষেপে না পোড়ে, তাই তাদের এখন থেকেই দিক-নির্দেশনা দেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল আইকন। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক  বলেন, যখন আপনি বয়সে তরুণ থাকবেন, তখন বুঝতে পারবেন না। আমি সেই কথাগুলো এখন সন্তানদের বলি, পর্যাপ্ত শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, শেখা এবং (ভবিষ্যতের) প্রস্তুতি নেওয়া। আমি সবসময়ই তাদের বলি প্রাপ্ত সুবিধা যেন ভালোভাবে কাজে লাগায়। তারা অবশ্য আমার চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতি পার করছে, যদিও আমারও কোনো কিছুর অভাব ছিল না।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে অবিশ্বাস্য ফুটবলপ্রতিভা নিয়ে আঁতুড়ঘর রোজারিও শহর ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান মেসি। তখন আর্জেন্টাইন ওই অঞ্চলে দুর্যোগ চলছিল। মেসি সেই কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময় (আর্জেন্টিনায় স্কুলে অধ্যয়নের শেষ বছর) দুর্যোগ চলছিল। আমি জানতাম বার্সেলোনার উদ্দেশে এই জায়গা ছেড়ে যাচ্ছি। সেখানকার লা মাসিয়ায় (বার্সেলোনা যুব একাডেমি) অন্যদের সঙ্গে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষ করি। ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে পিএসজিকে বিদায় দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল ছেড়ে যান মেসি।

তিনি যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। রেকর্ড সর্বোচ্চ আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা বলেন, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে আমার যে কোনো কিছু করার সুযোগ ছিল। পুরো যাত্রায় আমি অনেক অভিজ্ঞতা ও বিষয় শিখেছি। এটিও সত্যি যে ফুটবল জীবন যাপনের একটি উপায়। এটি আপনাকে অনেক কিছু শেখাবে, অনেক মূল্য দেবে। সারা জীবনের একটি বন্ধন গড়ে দেবে, উপযুক্ত জায়গাটি চিনতে হবে আপনার।
স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, আমি খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং সেখানে আমি প্রায় সব বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতেই খেলেছিলাম। তারপরও আমি মনেপ্রাণে আর্জেন্টাইন। তবে স্পেনে হয়ে খেলার সুযোগটা ছিল এবং সেটা হতেও পারত। কিন্তু আমার সবসময়ের আকাক্সক্ষা ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার।