মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়ের বিয়ের আগের দিন স্ত্রীকে হত্যা

নরসিংদীর রায়পুরায় মেয়ের বিয়ের আগের দিন স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক।

সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের হাইরমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফিয়া (৫০) পাঁচ সন্তানের জননী ও ওই গ্রামের ইজিবাইক চালক সুজন মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আফিয়া-সুজন দম্পতির মেজো মেয়ে চাঁদনির বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার জন্য তাদের বড় মেয়ে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। অভিযুক্ত সুজন নেশাসক্ত হওয়ায় ওই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা সরিয়ে খরচ করে ফেলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

তারা আরও জানান, সুজন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণনেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই আফিয়াকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল ছুরি দিয়ে আফিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুজন পলাতক রয়েছেন।

নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, নিহতের শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

রায়পুরা থানার ওসি মুজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত সুজনকে গ্রেফতারে রায়পুরা থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মেয়ের বিয়ের আগের দিন স্ত্রীকে হত্যা

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় মেয়ের বিয়ের আগের দিন স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক।

সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের হাইরমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফিয়া (৫০) পাঁচ সন্তানের জননী ও ওই গ্রামের ইজিবাইক চালক সুজন মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আফিয়া-সুজন দম্পতির মেজো মেয়ে চাঁদনির বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার জন্য তাদের বড় মেয়ে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। অভিযুক্ত সুজন নেশাসক্ত হওয়ায় ওই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা সরিয়ে খরচ করে ফেলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

তারা আরও জানান, সুজন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণনেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই আফিয়াকে মারধর করতেন। সোমবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল ছুরি দিয়ে আফিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুজন পলাতক রয়েছেন।

নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, নিহতের শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

রায়পুরা থানার ওসি মুজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত সুজনকে গ্রেফতারে রায়পুরা থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।