রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা-মদিনার পবিত্র মসজিদগুলোতে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ বাড়ছে

বর্তমান বিশ্ব দ্রুত ডিজিটাইজেশনের দিকে ঝুঁকছে। সরকারি-বেসরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এতে মানুষ যেকোনো জায়গা থেকে সহজে সংযুক্ত থাকতে পারছে গোটা বিশ্বের সঙ্গে। যেকোনো তথ্য বা সেবা গ্রহণ করতে পারছে খুব সহজেই।

এই ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মক্কার পবিত্র মসজিদে হারাম ও মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর মুসল্লি ও হজযাত্রীদের সেবাকে আরো উন্নত করতে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মুসল্লিদের মধ্যেও এই সেবা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৪৪৭ হিজরি সনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় প্রায় ৫০ লাখ ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্সির সাধারণ তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পবিত্র মসজিদের দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ করা এবং ডিজিটাল রূপান্তর জোরদার করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ‘আল-কাসিদ গেট’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী সংখ্যা পৌঁছেছে তিন লাখ ৫০ হাজার ৬৬৮ জনে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্সির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩ জন।

এ ছাড়া মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদের নববীর খুতবার অনুবাদসহ সরাসরি সম্প্রচার তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৬ বার দেখা হয়েছে। ওয়াচ টাইমে হিসাবে যা ৩৩০ ঘণ্টা ছিল।

‘টু হোলি মসজিদস মেসেজ’ প্ল্যাটফর্মে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৭ জনে। পাশাপাশি দুই মসজিদের ভেতরে স্থাপিত ইন্টারঅ্যাকটিভ স্ক্রিনের মাধ্যমে ৫১ হাজার ৫৬৩ জন সেবা নিয়েছেন, যার মোট পরিচালন সময় ছিল পাঁচ হাজার ২৪৮ ঘণ্টা।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে মোট তিন লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৩টি কনটেন্ট ডাউনলোড করা হয়েছে। ‘মাকরা আল-হারামাইন’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ১০০ জন। সব মিলিয়ে ডিজিটাল সেবাগুলোর মোট কার্যক্রম সময় পাঁচ হাজার ৫৭৮ ঘণ্টার বেশি হয়েছে।

প্রেসিডেন্সি জানায়, এসব পরিসংখ্যান তাদের ডিজিটালব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সফলতার প্রতিফলন, যা বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর কাছে পৌঁছাতে এবং বিভিন্ন ভাষায় নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য সরবরাহে সক্ষম হয়েছে।

তারা আরো জানায়, এসব উদ্যোগ ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুই পবিত্র মসজিদের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরো সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা সৌদি ভিশন ২০২৩-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মক্কা-মদিনার পবিত্র মসজিদগুলোতে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ বাড়ছে

প্রকাশিত সময় : ০৪:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বর্তমান বিশ্ব দ্রুত ডিজিটাইজেশনের দিকে ঝুঁকছে। সরকারি-বেসরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এতে মানুষ যেকোনো জায়গা থেকে সহজে সংযুক্ত থাকতে পারছে গোটা বিশ্বের সঙ্গে। যেকোনো তথ্য বা সেবা গ্রহণ করতে পারছে খুব সহজেই।

এই ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মক্কার পবিত্র মসজিদে হারাম ও মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর মুসল্লি ও হজযাত্রীদের সেবাকে আরো উন্নত করতে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মুসল্লিদের মধ্যেও এই সেবা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৪৪৭ হিজরি সনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় প্রায় ৫০ লাখ ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্সির সাধারণ তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পবিত্র মসজিদের দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরো সমৃদ্ধ করা এবং ডিজিটাল রূপান্তর জোরদার করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ‘আল-কাসিদ গেট’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী সংখ্যা পৌঁছেছে তিন লাখ ৫০ হাজার ৬৬৮ জনে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্সির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩ জন।

এ ছাড়া মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদের নববীর খুতবার অনুবাদসহ সরাসরি সম্প্রচার তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৬ বার দেখা হয়েছে। ওয়াচ টাইমে হিসাবে যা ৩৩০ ঘণ্টা ছিল।

‘টু হোলি মসজিদস মেসেজ’ প্ল্যাটফর্মে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৭ জনে। পাশাপাশি দুই মসজিদের ভেতরে স্থাপিত ইন্টারঅ্যাকটিভ স্ক্রিনের মাধ্যমে ৫১ হাজার ৫৬৩ জন সেবা নিয়েছেন, যার মোট পরিচালন সময় ছিল পাঁচ হাজার ২৪৮ ঘণ্টা।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে মোট তিন লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৩টি কনটেন্ট ডাউনলোড করা হয়েছে। ‘মাকরা আল-হারামাইন’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ১০০ জন। সব মিলিয়ে ডিজিটাল সেবাগুলোর মোট কার্যক্রম সময় পাঁচ হাজার ৫৭৮ ঘণ্টার বেশি হয়েছে।

প্রেসিডেন্সি জানায়, এসব পরিসংখ্যান তাদের ডিজিটালব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সফলতার প্রতিফলন, যা বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর কাছে পৌঁছাতে এবং বিভিন্ন ভাষায় নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য সরবরাহে সক্ষম হয়েছে।

তারা আরো জানায়, এসব উদ্যোগ ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুই পবিত্র মসজিদের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরো সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা সৌদি ভিশন ২০২৩-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।