বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাস্তবতা মেনে নিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে : রুবিও

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট সমাধানের জন্য ইরানকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে আবার আলোচনায় ফিরতে হবে। আজ মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন চেষ্টা করছে ইরান কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী, তা বুঝতে। সেই অনুযায়ী আলোচনার পথ তৈরি করা হবে।

রুবিও বলেন, শুরুতেই বড় কোনো বিস্তারিত চুক্তি না হয়ে, আগে কিছু সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার বিষয় ও ইরান কী ধরনের ছাড় দিতে পারে, তা পরিষ্কার হোক। তার মতে, ইরান যদি বাস্তবতা মেনে নিয়ে আলোচনায় আসে, তাহলে তা শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য ভালো হবে।

রুবিও বলেন, ‘আমাদেরকে যে লিখিত আকারে একটি চুক্তি করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কিন্তু আমাদের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে তারা কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক এবং আলোচনার শুরুতেই তারা কী পরিমাণ ও কী ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। যাতে সেই আলোচনাগুলো সার্থক হয়।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।

তিনি বলেন, ইরানের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই। রুবিওর মতে, ইরান সব সময় বলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড সে কথা প্রমাণ করে না।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এমন সব সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা তৈরি।

রুবিও আরো বলেন, কোনো দেশ যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, তাহলে তারা যেসব কাজ করে, ইরান ঠিক সেগুলোই করছে।

তিনি বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন ইরানের সামনে সুযোগ আছে স্পষ্ট করে দেখানোর যে তারা আসলেই পারমাণবিক অস্ত্র চায় না।
পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যায়, তাহলে এর প্রভাব সারা বিশ্বের জন্য খুবই

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পায়, তাহলে তারা বিশ্বের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে, যেমনটি এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় পারমাণবিক কর্মসূচি একটি বড় বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করুক। অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার রাখে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে এবং আলোচনা অব্যাহত আছে। ট্রাম্প আরো বলেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে সবার জন্য ভালো কিছু ফল বয়ে আনতে পারে।

এদিকে, আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাল্টা প্রস্তাব মূল্যায়ন করছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন বার্তাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া গেছে এবং তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত নিয়ে আমি এই মুহূর্তে আলোচনা করব না। কারণ এই বিষয়গুলো এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’

মুখপাত্র আলোচনা প্রক্রিয়ার অসুবিধাগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানোয় মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা সহজ নয়।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাস্তবতা মেনে নিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে : রুবিও

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট সমাধানের জন্য ইরানকে বাস্তবতা মেনে নিয়ে আবার আলোচনায় ফিরতে হবে। আজ মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন চেষ্টা করছে ইরান কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী, তা বুঝতে। সেই অনুযায়ী আলোচনার পথ তৈরি করা হবে।

রুবিও বলেন, শুরুতেই বড় কোনো বিস্তারিত চুক্তি না হয়ে, আগে কিছু সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার বিষয় ও ইরান কী ধরনের ছাড় দিতে পারে, তা পরিষ্কার হোক। তার মতে, ইরান যদি বাস্তবতা মেনে নিয়ে আলোচনায় আসে, তাহলে তা শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য ভালো হবে।

রুবিও বলেন, ‘আমাদেরকে যে লিখিত আকারে একটি চুক্তি করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

কিন্তু আমাদের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে তারা কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক এবং আলোচনার শুরুতেই তারা কী পরিমাণ ও কী ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। যাতে সেই আলোচনাগুলো সার্থক হয়।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।

তিনি বলেন, ইরানের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই। রুবিওর মতে, ইরান সব সময় বলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড সে কথা প্রমাণ করে না।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এমন সব সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা তৈরি।

রুবিও আরো বলেন, কোনো দেশ যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, তাহলে তারা যেসব কাজ করে, ইরান ঠিক সেগুলোই করছে।

তিনি বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন ইরানের সামনে সুযোগ আছে স্পষ্ট করে দেখানোর যে তারা আসলেই পারমাণবিক অস্ত্র চায় না।
পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যায়, তাহলে এর প্রভাব সারা বিশ্বের জন্য খুবই

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পায়, তাহলে তারা বিশ্বের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে, যেমনটি এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় পারমাণবিক কর্মসূচি একটি বড় বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করুক। অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার রাখে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান চলছে এবং আলোচনা অব্যাহত আছে। ট্রাম্প আরো বলেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে সবার জন্য ভালো কিছু ফল বয়ে আনতে পারে।

এদিকে, আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাল্টা প্রস্তাব মূল্যায়ন করছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন বার্তাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাওয়া গেছে এবং তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত নিয়ে আমি এই মুহূর্তে আলোচনা করব না। কারণ এই বিষয়গুলো এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’

মুখপাত্র আলোচনা প্রক্রিয়ার অসুবিধাগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানোয় মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা সহজ নয়।