শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত’

ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী টাবু। বলিউডের প্রচলিত নিয়ম মেনে চলার মানুষ কখনো ছিলেন না। বছরের পর বছর ধরে নিজের পছন্দের চরিত্রে অভিনয় করছেন। গসিভ বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনার বাইরে থেকে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী।

কয়েক দিন আগে হার্পারস বাজারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন টাবু। এ আলাপচারিতায় অভিনেত্রীদের বয়স বাড়া নিয়ে চাপ, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সততার সঙ্গে জীবনযাপন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ৫৪ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী।

অভিনেত্রীদের বয়স প্রসঙ্গে টাবু বলেন, “মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত। তারা আপনাকে আয়না দেখাতে চায়, ভাবটা এমন যে, আপনার বাড়িতে যেন আয়না নেই।”

 

খানিকটা ব্যাখ্যা করে টাবু বলেন, “যে মানুষটি এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, সে তো এক রাতেই বুড়ো হয়ে যায়নি। আমরা প্রতিদিনই এটা অনুভব করি। এমন তো নয় যে, ২০ বছর বয়সে ঘুমালেন আর পরের দিন উঠে দেখেন আপনার বয়স ৪৫ বছর হয়ে গেছে।”

ইন্ডাস্ট্রির অনেকে টাবুকে পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো সিনেমা না করতে চাইলে যেন, সত্যিকারের কারণ না বলি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকে চাইতেন, স্ক্রিপ্ট নিয়ে সরাসরি মতামত না দিয়ে ‘ডেট মেলেনি’ ধরনের অজুহাত যেন ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে টাবু বলেন, “তুমি কেন সিনেমাটি করবে না, তার সত্যিকারের কারণ বলা উচিত নয়। তারা বলতেন, ডেটের অজুহাত দাও আর চলে যাও। আমি এটা বুঝতাম না। আমার যদি স্ক্রিপ্ট ভালো না লাগে, তাহলে আমি সেটাই বলতাম।”

মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘বাজার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন টাবু। তিন বছরের বিরতি নিয়ে ‘হাম নওজওয়ান’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এরপর বিরতি নেন ৬ বছর। ১৯৯১ সালে তেলেগু ভাষার ‘কুলি নাম্বার-১’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন টাবু। ১৯৯৪ সালে হিন্দি ভাষার ‘বিজয় পথ’ সিনেমায় অভিনয় করে নজর কাড়েন। এ সিনেমার জন্য নবাগত নায়িকা হিসেবে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন অজয় দেবগন।

টাবু এখন শক্তিশালী ও সাহসী চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বহু ভাষার সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছে—‘নিন্নে পেলেডাথা’, ‘কালাপানি’, ‘ইরুভার’, ‘দ্য নেমসেক’, ‘হায়দার’, ‘মকবুল’, ‘জিত’ প্রভৃতি। দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন টাবু। ১৯৯৬ সালে ‘মাচিস’ সিনেমার জন্য প্রথম, ২০০১ সালে ‘চাঁদনি বার’ সিনেমায় ‘মুমতাজ’ চরিত্রে অভিনয় করে দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেত্রী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত’

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী টাবু। বলিউডের প্রচলিত নিয়ম মেনে চলার মানুষ কখনো ছিলেন না। বছরের পর বছর ধরে নিজের পছন্দের চরিত্রে অভিনয় করছেন। গসিভ বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনার বাইরে থেকে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী।

কয়েক দিন আগে হার্পারস বাজারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন টাবু। এ আলাপচারিতায় অভিনেত্রীদের বয়স বাড়া নিয়ে চাপ, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সততার সঙ্গে জীবনযাপন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ৫৪ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী।

অভিনেত্রীদের বয়স প্রসঙ্গে টাবু বলেন, “মানুষ আপনার বয়স নিয়ে আপনার চেয়েও অধিক চিন্তিত। তারা আপনাকে আয়না দেখাতে চায়, ভাবটা এমন যে, আপনার বাড়িতে যেন আয়না নেই।”

 

খানিকটা ব্যাখ্যা করে টাবু বলেন, “যে মানুষটি এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, সে তো এক রাতেই বুড়ো হয়ে যায়নি। আমরা প্রতিদিনই এটা অনুভব করি। এমন তো নয় যে, ২০ বছর বয়সে ঘুমালেন আর পরের দিন উঠে দেখেন আপনার বয়স ৪৫ বছর হয়ে গেছে।”

ইন্ডাস্ট্রির অনেকে টাবুকে পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো সিনেমা না করতে চাইলে যেন, সত্যিকারের কারণ না বলি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকে চাইতেন, স্ক্রিপ্ট নিয়ে সরাসরি মতামত না দিয়ে ‘ডেট মেলেনি’ ধরনের অজুহাত যেন ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে টাবু বলেন, “তুমি কেন সিনেমাটি করবে না, তার সত্যিকারের কারণ বলা উচিত নয়। তারা বলতেন, ডেটের অজুহাত দাও আর চলে যাও। আমি এটা বুঝতাম না। আমার যদি স্ক্রিপ্ট ভালো না লাগে, তাহলে আমি সেটাই বলতাম।”

মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘বাজার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন টাবু। তিন বছরের বিরতি নিয়ে ‘হাম নওজওয়ান’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এরপর বিরতি নেন ৬ বছর। ১৯৯১ সালে তেলেগু ভাষার ‘কুলি নাম্বার-১’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন টাবু। ১৯৯৪ সালে হিন্দি ভাষার ‘বিজয় পথ’ সিনেমায় অভিনয় করে নজর কাড়েন। এ সিনেমার জন্য নবাগত নায়িকা হিসেবে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন অজয় দেবগন।

টাবু এখন শক্তিশালী ও সাহসী চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বহু ভাষার সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছে—‘নিন্নে পেলেডাথা’, ‘কালাপানি’, ‘ইরুভার’, ‘দ্য নেমসেক’, ‘হায়দার’, ‘মকবুল’, ‘জিত’ প্রভৃতি। দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন টাবু। ১৯৯৬ সালে ‘মাচিস’ সিনেমার জন্য প্রথম, ২০০১ সালে ‘চাঁদনি বার’ সিনেমায় ‘মুমতাজ’ চরিত্রে অভিনয় করে দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেত্রী।