প্রকাশিত সময় :
০৫:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
১০
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় শোকে পাথর ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। নিহত রামিসা মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আজ বৃহস্পতিবার রামিসার শূন্য শ্রেণিকক্ষে পা রেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। নিষ্পাপ মেয়েটির সহপাঠীদের বুকে জড়িয়ে ধরে তার সেই বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে স্কুলের বাতাস।
প্রিয় বন্ধুর এমন নৃশংস বিদায় মেনে নিতে না পেরে সহপাঠী শিশুরাও অঝোরে কাঁদতে থাকে এবং একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামিসার সহপাঠীরা জানায়, তারা রামিসাকে কখনোই ভুলবে না এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের খুনি যেন কোনোভাবেই পার না পায়, তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার চায়।
পল্লবীর এই পৈশাচিক বর্বরতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে দেশের আপামর জনতা। খুনিদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। সকালে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে সহপাঠী ও এলাকাবাসী সমবেত হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ জনতা ও সহপাঠীরা পল্লবী থানার সামনে বিক্ষোভ করার একপর্যায়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারা প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কোনো রকম দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরাসরি ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর দাবি জানান।
একই দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এমনকি ঢাকার বাইরে রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও ‘আজকের তারুণ্য’ ব্যানারসহ সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তুলেছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ, যা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়। এই লোমহর্ষক ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যে পুলিশের খাঁচায় বন্দি পাশবিকতার প্রতীক সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করার লোমহর্ষক সত্য স্বীকার করে আদালতে নিজের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এখন আপামর জনতার একটাই দাবি—এই নরপিশাচের যেন দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।