প্রকাশিত সময় :
০১:৪৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৬
গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলের অমানবিক অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা-করা বৈশ্বিক সামুদ নৌ- বহরের ত্রাণ-কর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি কারাগারে তাদের ওপর চালানো হয়েছে ভয়াবহ নির্যাতন। মারধর, মাটিতে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া, বৈদ্যুতিক শক দেয়া, শারীরিক নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির কথাও তারা প্রকাশ করেছেন।
৪০টিরও বেশি দেশের এই কর্মীরা তুরস্কে পৌঁছান এমন অবস্থায়, যখন তাদের শরীরে আন্তর্জাতিক পানিসীমা ও ইসরায়েলি আটককেন্দ্রে বন্দিদশার সময় চালানো বর্বর নির্যাতন ও শারীরিক নিপীড়নের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।
বৈশ্বিক সামুদ বহরের কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা:
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ক্যামেরায় মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রত্যক্ষ ও লোম-হর্ষক সাক্ষ্য ধারণ করা হয়। তারা পিঠ, পা ও মুখের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে জানান যে তাদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, মাটিতে টেনে নেওয়া হয়েছে, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে এবং শারীরিক নিপীড়নের শিকার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আইরিশ চিকিৎসক এবং আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির বোন মার্গারেট কনোলি ইসরায়েলের হাতে আটকাবস্থার পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয় ও অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দখলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০ জন নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে তিন দিন ধরে একটি “নোংরা” ধাতব কন্টেইনারে আটকে রেখেছিল, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার-পানি ছিল না এবং সাবান বা টয়লেট টিস্যুর মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রীও ছিল না।
অন্য কর্মীরাও বিস্তারিতভাবে এসব নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। কানাডিয়ান কর্মী ইহাব লতিফ জানান, তিনি যখন কথোপকথন অনুবাদ এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পানি বিতরণের চেষ্টা করছিলেন, তখন এক ইসরায়েলি সেনা তার হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে তার হাত অবশ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘ইচ্ছাকৃত শাস্তি’ হিসেবে আরও কয়েকজন কর্মীর পাঁজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
আরেক কানাডিয়ান নাগরিক মাইকেল ফ্রান্স ব্যাখ্যা করেন যে তাদের যুদ্ধজাহাজে থাকা ধাতব কন্টেইনারে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যেগুলোকে আটককেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছিল। সেখানে তাদের পাথরের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনারা সামরিক বুট দিয়ে তাদের খালি পায়ে লাথি মারত এবং তার মাথা ও মুখে আঘাত করত।
‘মাজিদ’ নামের আরেক কর্মী জানান, তাকে এবং আরেক কর্মীকে খুব কাছ থেকে পায়ের দিকে প্লাস্টিক বুলেট ছোড়া হয়েছিল। এরপর প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে কোনো চিকিৎসা বা সহানুভূতি ছাড়াই তাদের যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা ইসরায়েলের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে।
কর্মীরা আরও নিশ্চিত করেছেন যে নারী বন্দিদেরও ইসরায়েলি কারারক্ষীদের হাতে আটক, মারধর এবং যৌন হয়রানির মত চরম অপমানের শিকার হতে হয়েছে।
সূত্র: পার্সটুডে