প্রকাশিত সময় :
১১:৫৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
৩
হিজবুল্লাহ প্রধান শেখ নাঈম কাসেম বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অপদস্থ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিশ্বের স্বৈরাচারী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একাই অবিচল প্রতিরোধশক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। রোববার (২৪ মে) লেবাননের মুক্তি ও প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ নাঈম কাসেম ইরানকে একটি “ব্যতিক্রমী শক্তি” হিসেবে আখ্যা দেন, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করবে এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষদের আকৃষ্ট করবে।
লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “বিশ্বের স্বৈরাচারী ও বৃহৎ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একাই দাঁড়িয়ে আছে ইরান।” তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিব—উভয়কেই অপদস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধজোটের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, “ইরান গর্বের সঙ্গে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসবে,” এবং দেশটি আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন এক ব্যতিক্রমী শক্তিতে পরিণত হবে, যা স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য আশ্রয়স্থল হবে।
লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তারা কখনোই অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান মেনে নেবেন না।
রোববারের ভাষণে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান মেনে নেওয়া মানে হবে সংগঠনটির এবং লেবাননের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস ডেকে আনা।
তিনি বলেন, “প্রতিরোধশক্তিকে নিরস্ত্র করা মানে বাস্তবে লেবাননের আত্মরক্ষার সক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এবং ধ্বংসের পথ তৈরি করা—যা আমরা কখনোই মেনে নেব না।”
এই ধর্মীয় নেতা ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা ও তার মিত্রদের মোকাবিলায় দুর্বলতার জন্য লেবানন সরকারকেও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার আগ্রাসীদের মোকাবিলা করতে অক্ষম।
শেখ কাসেম বলেন, “আমরা সরকারকে আমেরিকা-ইসরায়েলি প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করতে বলছি না, কিন্তু অন্তত এটিকে বাস্তবায়নের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। লেবানন সরকার নিজের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না, কিংবা ইসরায়েলের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মেলাতে পারে না।”
তিনি বলেন, লেবানন সরকারের ভেতরে যারা হিজবুল্লাহকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছেন, তাদের জানা উচিত—এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েলকে “দেশে প্রবেশ করে জনগণকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার সুযোগ করে দেবে।”
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পশ্চিমাপন্থী লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে অস্ত্র ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা অনেকের মতে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টা।
হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার আহ্বান ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া তথাকথিত শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসেছে। ওই যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা এবং পাল্টা হামলা থেকে হিজবুল্লাহকে বিরত রাখা।
তবে শেখ কাসেম বলেন, প্রায় দুই বছর আগে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করে লেবাননের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং লেবানন সরকার সেই চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান আরও বলেন, বৈরুতে সরকারকে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসা উচিত, কারণ এ ধরনের আলোচনার একমাত্র ফল হবে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা।