মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিত্র আরাফা দিবসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য

মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি

মাস, দিন, সময় এগুলোর সূচনা পৃথিবীর সৃষ্টি হতে শুরু হয়েছে। জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত অন্য যে কোনো মাসের যে কোনো দিনের চেয়েও বেশি। এ ১০ দিনের মধ্যে ৯ জিলহজ ইয়াওমে আরাফা বা আরাফা দিবস। এ দিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে মুসলমানরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়। এ দিনের ফজিলত ও তাত্পর্য অপরিসীম। এ দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত এবং গুনাহ থেকে পরিত্রাণের দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আজকের প্রবন্ধে আরাফা দিবসের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।

আরাফা দিবসের পরিচয়

আরাফা শব্দের অর্থ হলো পরিচিতি, দ্বাহহাক (রহ.) বলেন, আদম (আ.)-কে হিন্দুস্তানে এবং হাওয়া (আ.)-কে জেদ্দায় বেহেশত থেকে অবতরণ করা হয়েছিল। অবতরণের পর তারা পরস্পর পরস্পরকে খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে একদিন উভয়ে আরাফাতের ময়দানে আরাফার দিনে মিলিত হলেন এবং একে অপরের মধ্যে পরিচয় ঘটলো। এ কারণে ওই স্থানের নাম হলো আরাফাত আর ওই দিনের নাম হলো আরাফার দিন।

আরাফা দিবসের ফজিলত
আরাফার দিনের ফজিলত সম্পর্কে বুখারি শরিফে বর্ণিত আছে, ইহুদিরা ওমর (রা.)-কে বলল যে আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের ওপর নাজিল হতো, তবে আমরা সেটাকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করে দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতাম। ওমর (রা.) বললেন, এটা কখন এবং কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে আর নাজিলের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কোথায় ছিলেন তা আমি জানি। আল্লাহর শপথ! আমরা সবাই এ সময় আরাফাতে ছিলাম। এ দিন আমাদের জন্য দুইটি ঈদ ছিল—প্রথমত, সেদিন ছিল জুমাবার যাকে আমরা ঈদ হিসেবে উদযাপন করি। দ্বিতীয়ত, সে দিন ছিল ইয়াওমে আরাফা যাকে হাদিসে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। (বুখারি : হাদিস, ৪২৫১)

জুমার দিন ও আরাফার দিন ঈদের দিন
জুমার দিন ও আরাফার দিন ঈদের দিন। কেননা, হাদিসের মধ্যে এ দুই দিনকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ওমর (রা.) বলেন, এ আয়াত আরাফাতের ময়দানে জুমার দিন নাজিল হয়েছিল। আল্লাহর শোকর যে এ উভয় দিন (জুমা ও আরাফা) আমাদের জন্য ঈদের দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলমানও পৃথিবীতে থাকবে ততোদিন এ দুটি দিন মুসলমানের জন্য ঈদের দিন হিসেবে গন্য থাকবে। একটি হলো জুমার দিন, আরেকটি হলো ইয়াওমে আরাফা তথা আরাফার দিন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪১৯)

আরাফা দিবসে দ্বিন পূর্ণতার ঘোষণা
আরাফার দিনে আরাফাতের ময়দানে নবীজি ও সাহাবায়ে কেরাম যখন উকুফে আরাফা করছিলেন তখন আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর ওপর কোরআনুল কারিমের সর্বশেষ আয়াত নাজিল করে দ্বিনকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আর সেটি হলো সুরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত। এই আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তাআলা বলেন, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য চূড়ান্ত দ্বিন হিসেবে মনোনীত করলাম। এ আয়াত নাজিলের পর নবীজি (সা.) মাত্র ৮১ দিন পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া : ২/২৪২)

আরাফার দিন সর্বোত্তম দিন
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আরাফা দিবসের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই। এই দিনে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীবাসীকে নিয়ে গর্ব করে বলেন, তোমরা আমার ওই সব বান্দাদের দেখো, যারা বিক্ষিপ্ত ও এলোমেলো চুল নিয়ে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আমার রহমতের আশায় এবং শাস্তির ভয়ে আমার কাছে এসেছে। সুতরাং আরাফা দিবসের চেয়ে বেশি দোজখ থেকে মুক্তির আর কোনো দিন নেই। এই দিনে যে পরিমাণ লোক দোজখ থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে অন্য কোনো দিন করবে না।
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৮৫৩)

আরাফা দিবস গুনাহ মাফের দিন
নাফে (রা.) ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা আরাফা দিন তাঁর বান্দার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। যার অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকবে তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেয়া হবে। নাফে (রা.) বলেন, আমি ইবনে ওমর (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, এই ক্ষমা কি সব ঈমানদারের জন্য নাকি শুধু আরাফাবাসীদের জন্য খাস? জবাবে তিনি বলেন, এই ক্ষমা সকল ঈমানদারের জন্য। (ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.), লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ৪৭১)

আরাফার দিন জাহান্নামিদের মুক্তির দিন
আরাফার দিনে অসংখ্য মানুষদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়। আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, আরাফা দিবসের চেয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য অন্য কোন দিন নেই। (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ৪/৪৪২)
মুসলিম শরিফে আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, আরাফা দিবসে রোজা রাখলে আশা করি আল্লাহ তায়ালা রোজাদাহরের এক বছরের আগের ও এক পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (মুসলিম : হাদিস, ১১৬২)

আরাফার দিনে হাজিদের রোজা রাখা মাকরুহ
বিশিষ্ট সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) আরাফা দিবসে হাজিদের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (হুলিয়াতুল আউলিয়া : ৩/৩৯৭)

অনেকেই হাজি সাহেবানদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা মাকরুহ বলেছেন। কারণ এই দিন তাদের অধিকারে জিকির, দোয়া ও মুনাজাতে লিপ্ত থাকতে হয় এবং অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। রোজার কারণে যাতে তারা দুর্বল হয়ে না যায় সে কারণে হাজিদের সে দিন রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেছেন। তবে যারা সামর্থ্যবান তথা রোজার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা না থাকবে না, তাদের জন্য রোজা রাখাই উত্তম।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। আরাফাতের ময়দানে হজযাত্রী হাজির হয়ে আল্লাহর রহমত তালাশ করে। সমবেত সবাই ইবাদত-বন্দেগি ও গুনাহ মাফের জন্য কান্নাকাটি করে আল্লাহর জিকির, দোয়া, মুনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। আর আল্লাহ তাআলাও বান্দাদের ইবাদত-বন্দেগি এবং কান্না-কাটি মিনিময় হিসেবে তাদের ক্ষমা ও জান্নাত লাভের ঘোষণা দেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনে অন্তত একবার হলেও আরাফাতের ময়দানে হাজির হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : প্রভাষক (আরবি)

মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রি), বন্দর , চট্টগ্রাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পবিত্র আরাফা দিবসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি

মাস, দিন, সময় এগুলোর সূচনা পৃথিবীর সৃষ্টি হতে শুরু হয়েছে। জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত অন্য যে কোনো মাসের যে কোনো দিনের চেয়েও বেশি। এ ১০ দিনের মধ্যে ৯ জিলহজ ইয়াওমে আরাফা বা আরাফা দিবস। এ দিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ হতে মুসলমানরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়। এ দিনের ফজিলত ও তাত্পর্য অপরিসীম। এ দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন, আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত এবং গুনাহ থেকে পরিত্রাণের দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আজকের প্রবন্ধে আরাফা দিবসের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।

আরাফা দিবসের পরিচয়

আরাফা শব্দের অর্থ হলো পরিচিতি, দ্বাহহাক (রহ.) বলেন, আদম (আ.)-কে হিন্দুস্তানে এবং হাওয়া (আ.)-কে জেদ্দায় বেহেশত থেকে অবতরণ করা হয়েছিল। অবতরণের পর তারা পরস্পর পরস্পরকে খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে একদিন উভয়ে আরাফাতের ময়দানে আরাফার দিনে মিলিত হলেন এবং একে অপরের মধ্যে পরিচয় ঘটলো। এ কারণে ওই স্থানের নাম হলো আরাফাত আর ওই দিনের নাম হলো আরাফার দিন।

আরাফা দিবসের ফজিলত
আরাফার দিনের ফজিলত সম্পর্কে বুখারি শরিফে বর্ণিত আছে, ইহুদিরা ওমর (রা.)-কে বলল যে আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের ওপর নাজিল হতো, তবে আমরা সেটাকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করে দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতাম। ওমর (রা.) বললেন, এটা কখন এবং কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে আর নাজিলের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কোথায় ছিলেন তা আমি জানি। আল্লাহর শপথ! আমরা সবাই এ সময় আরাফাতে ছিলাম। এ দিন আমাদের জন্য দুইটি ঈদ ছিল—প্রথমত, সেদিন ছিল জুমাবার যাকে আমরা ঈদ হিসেবে উদযাপন করি। দ্বিতীয়ত, সে দিন ছিল ইয়াওমে আরাফা যাকে হাদিসে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। (বুখারি : হাদিস, ৪২৫১)

জুমার দিন ও আরাফার দিন ঈদের দিন
জুমার দিন ও আরাফার দিন ঈদের দিন। কেননা, হাদিসের মধ্যে এ দুই দিনকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ওমর (রা.) বলেন, এ আয়াত আরাফাতের ময়দানে জুমার দিন নাজিল হয়েছিল। আল্লাহর শোকর যে এ উভয় দিন (জুমা ও আরাফা) আমাদের জন্য ঈদের দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলমানও পৃথিবীতে থাকবে ততোদিন এ দুটি দিন মুসলমানের জন্য ঈদের দিন হিসেবে গন্য থাকবে। একটি হলো জুমার দিন, আরেকটি হলো ইয়াওমে আরাফা তথা আরাফার দিন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪১৯)

আরাফা দিবসে দ্বিন পূর্ণতার ঘোষণা
আরাফার দিনে আরাফাতের ময়দানে নবীজি ও সাহাবায়ে কেরাম যখন উকুফে আরাফা করছিলেন তখন আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর ওপর কোরআনুল কারিমের সর্বশেষ আয়াত নাজিল করে দ্বিনকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আর সেটি হলো সুরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াত। এই আয়াত নাজিল করে আল্লাহ তাআলা বলেন, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য চূড়ান্ত দ্বিন হিসেবে মনোনীত করলাম। এ আয়াত নাজিলের পর নবীজি (সা.) মাত্র ৮১ দিন পৃথিবীতে জীবিত ছিলেন। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া : ২/২৪২)

আরাফার দিন সর্বোত্তম দিন
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আরাফা দিবসের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই। এই দিনে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীবাসীকে নিয়ে গর্ব করে বলেন, তোমরা আমার ওই সব বান্দাদের দেখো, যারা বিক্ষিপ্ত ও এলোমেলো চুল নিয়ে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আমার রহমতের আশায় এবং শাস্তির ভয়ে আমার কাছে এসেছে। সুতরাং আরাফা দিবসের চেয়ে বেশি দোজখ থেকে মুক্তির আর কোনো দিন নেই। এই দিনে যে পরিমাণ লোক দোজখ থেকে পরিত্রাণ লাভ করবে অন্য কোনো দিন করবে না।
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৮৫৩)

আরাফা দিবস গুনাহ মাফের দিন
নাফে (রা.) ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা আরাফা দিন তাঁর বান্দার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। যার অন্তরে বিন্দুমাত্র ঈমান থাকবে তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেয়া হবে। নাফে (রা.) বলেন, আমি ইবনে ওমর (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, এই ক্ষমা কি সব ঈমানদারের জন্য নাকি শুধু আরাফাবাসীদের জন্য খাস? জবাবে তিনি বলেন, এই ক্ষমা সকল ঈমানদারের জন্য। (ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.), লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ৪৭১)

আরাফার দিন জাহান্নামিদের মুক্তির দিন
আরাফার দিনে অসংখ্য মানুষদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়। আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, আরাফা দিবসের চেয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য অন্য কোন দিন নেই। (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ৪/৪৪২)
মুসলিম শরিফে আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, আরাফা দিবসে রোজা রাখলে আশা করি আল্লাহ তায়ালা রোজাদাহরের এক বছরের আগের ও এক পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (মুসলিম : হাদিস, ১১৬২)

আরাফার দিনে হাজিদের রোজা রাখা মাকরুহ
বিশিষ্ট সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) আরাফা দিবসে হাজিদের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (হুলিয়াতুল আউলিয়া : ৩/৩৯৭)

অনেকেই হাজি সাহেবানদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা মাকরুহ বলেছেন। কারণ এই দিন তাদের অধিকারে জিকির, দোয়া ও মুনাজাতে লিপ্ত থাকতে হয় এবং অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। রোজার কারণে যাতে তারা দুর্বল হয়ে না যায় সে কারণে হাজিদের সে দিন রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেছেন। তবে যারা সামর্থ্যবান তথা রোজার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার আশংকা না থাকবে না, তাদের জন্য রোজা রাখাই উত্তম।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। আরাফাতের ময়দানে হজযাত্রী হাজির হয়ে আল্লাহর রহমত তালাশ করে। সমবেত সবাই ইবাদত-বন্দেগি ও গুনাহ মাফের জন্য কান্নাকাটি করে আল্লাহর জিকির, দোয়া, মুনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। আর আল্লাহ তাআলাও বান্দাদের ইবাদত-বন্দেগি এবং কান্না-কাটি মিনিময় হিসেবে তাদের ক্ষমা ও জান্নাত লাভের ঘোষণা দেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনে অন্তত একবার হলেও আরাফাতের ময়দানে হাজির হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : প্রভাষক (আরবি)

মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রি), বন্দর , চট্টগ্রাম।