প্রকাশিত সময় :
১০:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
০
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক ফেসবুক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
তিনি লেখেন, Climate Risk Index 2026 অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC), উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
কৃষিখাতকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও আধুনিক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বার্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সব শেষে তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।