শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে একে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের নানা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন জোরদার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র নদীভাঙন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, অনাবৃষ্টি ও ঘন ঘন শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ক্ষত তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তীব্র বায়ুদূষণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দিবসের সূচনা হয়। এর পরদিন অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের ৫ জুন থেকে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; বরং নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা এবং বেশি করে গাছ লাগানোর মাধ্যমেই কেবল একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস

প্রকাশিত সময় : ১০:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে একে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের নানা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন জোরদার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তীব্র নদীভাঙন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, অনাবৃষ্টি ও ঘন ঘন শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ক্ষত তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তীব্র বায়ুদূষণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দিবসের সূচনা হয়। এর পরদিন অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের ৫ জুন থেকে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; বরং নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা এবং বেশি করে গাছ লাগানোর মাধ্যমেই কেবল একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।