সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খালের দখল নিয়ে আ.লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নারী পুরুষসহ ৮ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় আটজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা সকলে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতরা হলেন, স্থা্নীয় আ’লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন (৬০), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬), শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ (৩২) ও শিবির কর্মী আরাফাত হোসেন (২৭), আক্তার হোসেন (২৬), নাজমা খাতুন (২২), মোমিন মোড়ল (৬৫) ও লায়লা বেগম (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ শুক্রবার সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের অর্ধ্বশতাধিক ব্যক্তি সংক্রান্তির খালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আ’লীগ নেতা আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি ও আ’লীগের ৩০/৩৫ নেতাকর্মী মাছ শিকারে বাঁধা দিলে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়। পরবর্তীতে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে বিএনপির উত্তেজিত কিছু কর্মী শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ধাওয়া করে রাস্তা থেকে ধরে মারধর করে।
সংঘর্ষের বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, চৈত্র মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই খালের ইজারার মেয়াদও শেষ হয়েছে। নতুন করে সরকার ইজারা না দেওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল সেখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন। শুক্রবার এলাকার দরিদ্র মানুষ খালটিতে মাছ ধরতে গেলে আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হন। তিনি আরও দাবি করেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর বিএনপির কিছু কর্মী তাদের কর্মী আব্দুল্লাহ সাদকে কুপিয়ে আহত করে।
অভিযোগের বিষয়ে আজহারুল জানায়, মেয়াদ শেষ হলেও তিনি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন। আগে থেকে খালে মাছ ছাড়ায় তিনি বাঁধা দিয়েছিল। তবে রড ও শাবলসহ দা নিয়ে জামায়াত নেতা শাহিনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাদের ৯ জনকে আহত করা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা আজহারুলকে বিএনপির সমর্থক বলে জানিয়েছে। তার ইজারা নেওয়া খালে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মাছ ধরতে গেলে বাধার মুখে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের কুপিয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় দু’জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, সরকারি একটি খালের দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্তিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























