শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ: গভর্নর

ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে এবং আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে যেসব আমানতকারী টাকা উত্তোলনে সমস্যার মুখে ছিলেন, তারা এখন ধীরে ধীরে অর্থ পাচ্ছেন। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয় এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কাউকে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় না, বদলি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে গত ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক। তাই বোর্ডে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলো প্রয়োগ করা হবে।’’

আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তারা যে কোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন জানিয়ে গভর্নর আরো বলেন, ‘‘গত বছরের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের এডি রেশিও ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা স্বাভাবিক নয়। এ কারণে ব্যাংকটিকে এ হার কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তাও দেবে।’’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ: গভর্নর

প্রকাশিত সময় : ০৯:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে এবং আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে যেসব আমানতকারী টাকা উত্তোলনে সমস্যার মুখে ছিলেন, তারা এখন ধীরে ধীরে অর্থ পাচ্ছেন। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল। এরপর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠনেও কিছুটা সময় লেগেছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয় এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কাউকে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় না, বদলি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে গত ১৬ মার্চ পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না।

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যাংক। তাই বোর্ডে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলো প্রয়োগ করা হবে।’’

আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তারা যে কোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন জানিয়ে গভর্নর আরো বলেন, ‘‘গত বছরের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের এডি রেশিও ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা স্বাভাবিক নয়। এ কারণে ব্যাংকটিকে এ হার কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তাও দেবে।’’