প্রকাশিত সময় :
০৯:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
১৩
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধর ও আহত করার ঘটনায় ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে ৬ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং বাকিরা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন—এসআই মাসুদ রানা, আলম বাদশা ও আক্তারুল ইসলাম; এএসআই মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মেহেরুন্নেসা; এবং কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, মুখলেসুর রহমান, রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি অভিযোগপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং কোতোয়ালি থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অদক্ষতা, অপেশাদার আচরণ ও অসদাচরণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৩ জুন। জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে নগরের সিও বাজার এলাকায় নিখোঁজ হওয়া এক প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তাদের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলাকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। পরে ওই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুজ্জামান রাকিব থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়ান এবং পরে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরপরই তৎকালীন ওসি আজাদ রহমানসহ ছয়জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় এবং পরে তাকে বদলি করা হয়।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের ক্ষেত্রে আরপিএমপি ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।