শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন স্কালোনি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রোববার কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে আর্জেন্টিনার প্রতি রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও।

এ ধরনের অভিযোগকে নতুন কিছু মনে করেন না স্কালোনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কথা, যখন আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছিল। স্কালোনির ভাষায়, তখনও একই ধরনের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল।

তিনি বলেন, “১৯৮৬ সালেও বলা হয়েছিল আমরা নাকি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি। তাই এসব অভিযোগ নতুন নয়। আর্জেন্টিনা সবসময়ই শক্তিশালী একটি দল ছিল। অনেকে আমাদের জিততে দেখতে চায় না, আবার অনেকেই চায় আমরা সফল হই। খেলোয়াড়রা বিষয়টি বোঝে এবং এটিকে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগায়।”

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার থাকায় রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ খুবই সীমিত বলেও মন্তব্য করেন স্কালোনি। তার মতে, ভিএআর চালুর পর বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

মিশরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাতিল হওয়া গোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে স্পষ্ট ফাউল হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তে অন্য কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।

স্কালোনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “পক্ষপাতিত্ব বলে কিছু নেই। এসব মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি ছড়ানো হয়। এখন ছোট ঘটনাকেও অনেক বড় করে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৬ সালে এসে এত প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। নিয়মগুলো পরিষ্কার এবং সবার জন্যই সমান।”

এর আগেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন স্কালোনি। তখন তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও ভিত্তিহীন আলোচনায় গুরুত্ব না দিতে।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “এসবের সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো সোশ্যাল মিডিয়া না দেখা। আপনি যদি এগুলো না পড়েন, তাহলে এসব বিতর্কও আপনার কাছে পৌঁছাবে না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে নিজের হতাশাও প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার মতে, বর্তমানে যে কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে কিছু লিখে দিতে পারে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার যেমন ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি এর অপব্যবহারও রয়েছে। প্রমাণ ছাড়াই অনেক কিছু ভাইরাল হয়ে যায়। আমরা এসব বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না।”

উল্লেখ্য, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ ম্যাচে একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদন রিভিউ না হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন স্কালোনি

প্রকাশিত সময় : ০১:৪৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রোববার কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে আর্জেন্টিনার প্রতি রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও।

এ ধরনের অভিযোগকে নতুন কিছু মনে করেন না স্কালোনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কথা, যখন আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছিল। স্কালোনির ভাষায়, তখনও একই ধরনের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল।

তিনি বলেন, “১৯৮৬ সালেও বলা হয়েছিল আমরা নাকি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি। তাই এসব অভিযোগ নতুন নয়। আর্জেন্টিনা সবসময়ই শক্তিশালী একটি দল ছিল। অনেকে আমাদের জিততে দেখতে চায় না, আবার অনেকেই চায় আমরা সফল হই। খেলোয়াড়রা বিষয়টি বোঝে এবং এটিকে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগায়।”

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার থাকায় রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ খুবই সীমিত বলেও মন্তব্য করেন স্কালোনি। তার মতে, ভিএআর চালুর পর বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

মিশরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাতিল হওয়া গোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে স্পষ্ট ফাউল হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তে অন্য কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।

স্কালোনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “পক্ষপাতিত্ব বলে কিছু নেই। এসব মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশি ছড়ানো হয়। এখন ছোট ঘটনাকেও অনেক বড় করে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৬ সালে এসে এত প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। নিয়মগুলো পরিষ্কার এবং সবার জন্যই সমান।”

এর আগেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন স্কালোনি। তখন তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও ভিত্তিহীন আলোচনায় গুরুত্ব না দিতে।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “এসবের সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো সোশ্যাল মিডিয়া না দেখা। আপনি যদি এগুলো না পড়েন, তাহলে এসব বিতর্কও আপনার কাছে পৌঁছাবে না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে নিজের হতাশাও প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার মতে, বর্তমানে যে কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে কিছু লিখে দিতে পারে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার যেমন ইতিবাচক দিক আছে, তেমনি এর অপব্যবহারও রয়েছে। প্রমাণ ছাড়াই অনেক কিছু ভাইরাল হয়ে যায়। আমরা এসব বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না।”

উল্লেখ্য, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ ম্যাচে একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদন রিভিউ না হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।