শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়ে-ইংল্যান্ড মহারণে হালান্ডকে থামাবে কে?

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই—আর্লি হালান্ড। দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতায় নরওয়েকে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। তাই ফুটবলপ্রেমীদের বড় প্রশ্ন, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের রক্ষণ কি শেষ পর্যন্ত হালান্ডকে থামাতে পারবে?

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দারুণ চমক দেখিয়েছে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে ইরাক, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে হারানোর পর শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা।

নরওয়ের এই দুর্দান্ত অভিযানের সবচেয়ে বড় নায়ক হালান্ড। চার ম্যাচে সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার, যা নরওয়ের সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকে অনেকেই হালান্ড ও হ্যারি কেইনের ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবে দেখছেন। তবে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টালে সোলবাকেন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন।

সোলবাকেন বলেন, “এটি নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ, হালান্ড বনাম কেইনের নয়। কেইন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়, আর হালান্ড আমাদের। কিন্তু ফুটবল কখনোই দুই খেলোয়াড়ের লড়াই নয়। দলের অন্যদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হালান্ড আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, তবে সফল হতে তারও সতীর্থদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি নরওয়ের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল। এই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে তারা।

অন্যদিকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রেখে শিরোপার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চায় ইংল্যান্ড। শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন হালান্ড।

সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইয়ে নজর থাকবে নরওয়ের গোলমেশিনের দিকে। ইংল্যান্ড যদি তাকে আটকে রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারে। আর হালান্ড যদি গোলের ধারা অব্যাহত রাখেন, তাহলে বিশ্বকাপে আরও একটি বড় অঘটনের সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

নরওয়ে-ইংল্যান্ড মহারণে হালান্ডকে থামাবে কে?

প্রকাশিত সময় : ০২:২১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই—আর্লি হালান্ড। দুর্দান্ত গোল করার ধারাবাহিকতায় নরওয়েকে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। তাই ফুটবলপ্রেমীদের বড় প্রশ্ন, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের রক্ষণ কি শেষ পর্যন্ত হালান্ডকে থামাতে পারবে?

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দারুণ চমক দেখিয়েছে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে ইরাক, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টকে হারানোর পর শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা।

নরওয়ের এই দুর্দান্ত অভিযানের সবচেয়ে বড় নায়ক হালান্ড। চার ম্যাচে সাত গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার, যা নরওয়ের সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিকে অনেকেই হালান্ড ও হ্যারি কেইনের ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবে দেখছেন। তবে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টালে সোলবাকেন বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন।

সোলবাকেন বলেন, “এটি নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ, হালান্ড বনাম কেইনের নয়। কেইন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়, আর হালান্ড আমাদের। কিন্তু ফুটবল কখনোই দুই খেলোয়াড়ের লড়াই নয়। দলের অন্যদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হালান্ড আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, তবে সফল হতে তারও সতীর্থদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি নরওয়ের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল। এই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে তারা।

অন্যদিকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রেখে শিরোপার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চায় ইংল্যান্ড। শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন হালান্ড।

সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইয়ে নজর থাকবে নরওয়ের গোলমেশিনের দিকে। ইংল্যান্ড যদি তাকে আটকে রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারে। আর হালান্ড যদি গোলের ধারা অব্যাহত রাখেন, তাহলে বিশ্বকাপে আরও একটি বড় অঘটনের সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব।