রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।