মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিকেল মেরিনোর ‘যে ম্যাজিক’ ফ্রান্সের জন্য আতঙ্কের

ম্যাচ শেষের দিকে, সময় ফুরিয়ে আসছে। ঠিক তখনই যদি প্রয়োজন হয় একটি গোল, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ভরসার নাম মিকেল মেরিনো। চলমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।

শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৯১তম মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোল করেন মেরিনো। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নাটকীয় ২-১ ব্যবধানের জয়েও শেষ সময়ে গোল করে আবারও নায়ক বনে যান তিনি। দুই ম্যাচেই স্পেনের ত্রাতার ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুটি ম্যাচেই তিনি মাঠে নেমেছিলেন মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য। পর্তুগালের বিপক্ষে খেলেছিলেন পাঁচ মিনিট, আর বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাত্র চার মিনিট। কিন্তু এত অল্প সময়েই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন স্পেনের অন্যতম কার্যকর ‘সুপার-সাব’ হিসেবে।

মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোল করার অভ্যাস অবশ্য নতুন নয়। গত তিন মৌসুমে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও আর্সেনালের হয়ে, পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর তিনি করেছেন ১২টি গোল। একজন মিডফিল্ডারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন।

এই ১২ গোলের মধ্যে ৮টিই সরাসরি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে। কখনও দলকে সমতায় ফিরিয়েছে, আবার কখনও এনে দিয়েছে অমূল্য জয়। সর্বশেষ বেলজিয়ামের বিপক্ষেও সেই পরিচিত দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে গোল করে আবারও স্পেনকে রক্ষা করেছেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, শেষ মুহূর্তে গোল করার ক্ষেত্রে মেরিনোর কার্যকারিতা অবিশ্বাস্য। ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর করা তার গোলের হার ৭৫ শতাংশ, যেখানে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬ শতাংশ।

ক্লাব ফুটবলেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন মেরিনো। গত সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসলের বিপক্ষে আর্সেনালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেস্টার সিটির বিপক্ষেও ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ১১৯তম মিনিটে করা তার স্মরণীয় গোল স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিল।

শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গুরুত্বপূর্ণ গোল
রিয়াল সোসিয়েদাদ বনাম মায়োর্কা (২০২৪) — ৯৩তম মিনিট (২-১)
স্পেন বনাম জার্মানি (২০২৪) — ১১৯তম মিনিট (২-১)
আর্সেনাল বনাম লেস্টার সিটি (২০২৫) — ৮৭তম মিনিট (২-০)
স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস (২০২৫) — ৯৩তম মিনিট (২-২)
আর্সেনাল বনাম নিউক্যাসল (২০২৫) — ৮৪তম মিনিট (২-০)
আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২০২৬) — ৮৪তম মিনিট (৩-২)
স্পেন বনাম পর্তুগাল (২০২৬ বিশ্বকাপ) — ৯১তম মিনিট (১-০)
স্পেন বনাম বেলজিয়াম (২০২৬ বিশ্বকাপ) — ৮৮তম মিনিট (২-১)

মেরিনোর ক্যারিয়ারের মোট ৩৫ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর। অর্থাৎ তার মোট গোলের ৩৪.৩ শতাংশই শেষ মুহূর্তের। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে অন্তত ৩০ গোল করা ফুটবলারদের মধ্যে এই পরিসংখ্যান চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাই আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের হয়ে আবারও শেষ হাসিটা উপহার দেওয়ার অন্যতম বড় ভরসা হতে পারেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মিকেল মেরিনোর ‘যে ম্যাজিক’ ফ্রান্সের জন্য আতঙ্কের

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
ম্যাচ শেষের দিকে, সময় ফুরিয়ে আসছে। ঠিক তখনই যদি প্রয়োজন হয় একটি গোল, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ভরসার নাম মিকেল মেরিনো। চলমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।

শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৯১তম মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোল করেন মেরিনো। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নাটকীয় ২-১ ব্যবধানের জয়েও শেষ সময়ে গোল করে আবারও নায়ক বনে যান তিনি। দুই ম্যাচেই স্পেনের ত্রাতার ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুটি ম্যাচেই তিনি মাঠে নেমেছিলেন মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য। পর্তুগালের বিপক্ষে খেলেছিলেন পাঁচ মিনিট, আর বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাত্র চার মিনিট। কিন্তু এত অল্প সময়েই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন স্পেনের অন্যতম কার্যকর ‘সুপার-সাব’ হিসেবে।

মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোল করার অভ্যাস অবশ্য নতুন নয়। গত তিন মৌসুমে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও আর্সেনালের হয়ে, পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর তিনি করেছেন ১২টি গোল। একজন মিডফিল্ডারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন।

এই ১২ গোলের মধ্যে ৮টিই সরাসরি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে। কখনও দলকে সমতায় ফিরিয়েছে, আবার কখনও এনে দিয়েছে অমূল্য জয়। সর্বশেষ বেলজিয়ামের বিপক্ষেও সেই পরিচিত দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে গোল করে আবারও স্পেনকে রক্ষা করেছেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, শেষ মুহূর্তে গোল করার ক্ষেত্রে মেরিনোর কার্যকারিতা অবিশ্বাস্য। ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর করা তার গোলের হার ৭৫ শতাংশ, যেখানে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬ শতাংশ।

ক্লাব ফুটবলেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন মেরিনো। গত সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসলের বিপক্ষে আর্সেনালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে লেস্টার সিটির বিপক্ষেও ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ১১৯তম মিনিটে করা তার স্মরণীয় গোল স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিল।

শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গুরুত্বপূর্ণ গোল
রিয়াল সোসিয়েদাদ বনাম মায়োর্কা (২০২৪) — ৯৩তম মিনিট (২-১)
স্পেন বনাম জার্মানি (২০২৪) — ১১৯তম মিনিট (২-১)
আর্সেনাল বনাম লেস্টার সিটি (২০২৫) — ৮৭তম মিনিট (২-০)
স্পেন বনাম নেদারল্যান্ডস (২০২৫) — ৯৩তম মিনিট (২-২)
আর্সেনাল বনাম নিউক্যাসল (২০২৫) — ৮৪তম মিনিট (২-০)
আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২০২৬) — ৮৪তম মিনিট (৩-২)
স্পেন বনাম পর্তুগাল (২০২৬ বিশ্বকাপ) — ৯১তম মিনিট (১-০)
স্পেন বনাম বেলজিয়াম (২০২৬ বিশ্বকাপ) — ৮৮তম মিনিট (২-১)

মেরিনোর ক্যারিয়ারের মোট ৩৫ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে ম্যাচের ৮০ মিনিটের পর। অর্থাৎ তার মোট গোলের ৩৪.৩ শতাংশই শেষ মুহূর্তের। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে অন্তত ৩০ গোল করা ফুটবলারদের মধ্যে এই পরিসংখ্যান চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাই আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের হয়ে আবারও শেষ হাসিটা উপহার দেওয়ার অন্যতম বড় ভরসা হতে পারেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।