শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে চায় বিএনপি। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের তরুণরা চীনে যাচ্ছে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তারেক রহমানের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো গতিশীল করেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নির্যাতনের সময়ও আমরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’

তিনি বলেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগকে নয় বরং বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গে জিও পলিটিকাল ইন্টারেস্টে সম্পর্ক রাখতে চায়। আবার ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন বেশ উপরে। চীনের প্রযুক্তির সহায়তা চায় বাংলাদেশ। আবার চীনের কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষিত করতেও দেশটির সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, সোলার এনার্জি ও গ্রিন এনার্জির ব্যবহারে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা বাড়াতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশাবাদী, কারণ চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল আছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্কও আছে। আমরা চীন থেকে আমদানি ও রপ্তানি করব। চীনও আমাদের দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি করবে। আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে চীনের নেতৃত্ব চায় বাংলাদেশ।

সভায় ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনে বিদ্যমান হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কার্যকর করতে আগ্রহী তারা। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। তারেক রহমানের সফরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে চায় বিএনপি। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের তরুণরা চীনে যাচ্ছে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তারেক রহমানের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো গতিশীল করেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নির্যাতনের সময়ও আমরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’

তিনি বলেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগকে নয় বরং বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গে জিও পলিটিকাল ইন্টারেস্টে সম্পর্ক রাখতে চায়। আবার ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন বেশ উপরে। চীনের প্রযুক্তির সহায়তা চায় বাংলাদেশ। আবার চীনের কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষিত করতেও দেশটির সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, সোলার এনার্জি ও গ্রিন এনার্জির ব্যবহারে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা বাড়াতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশাবাদী, কারণ চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল আছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্কও আছে। আমরা চীন থেকে আমদানি ও রপ্তানি করব। চীনও আমাদের দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি করবে। আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে চীনের নেতৃত্ব চায় বাংলাদেশ।

সভায় ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনে বিদ্যমান হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কার্যকর করতে আগ্রহী তারা। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। তারেক রহমানের সফরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।