বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নামে বিজ্ঞান আছে’ ভেবেই ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন মিথিলা

মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত মুখ রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। পড়াশোনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক পডকাস্টে নিজের উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্বাচনের পেছনের অজানা ও কৌতূহলোদ্দীপক গল্প শোনালেন এই অভিনেত্রী।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়েছেন অনার্স ও মাস্টার্স। তবে এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার জন্য ছিল অনেকটাই আকস্মিক। ছোটবেলায় মায়ের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে যাওয়া-আসার স্মৃতিই পরবর্তী সময়ে তার বিষয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে।

মিথিলা জানান, এসএসসি ও এইচএসসি দুটিই তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাকে। মিথিলা বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছি। অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোই।’

মিথিলার কথায়, ‘আমার ধারণা, অবচেতন মনে আমার ভেতরে একটা একটা ভালোবাসা ছিল ওই জায়গাটার প্রতি। তো সেখান থেকে আমি ভাবলাম যে, না ঠিক আছে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়বো। কিন্তু যদি পড়ি তাহলে আমি কলাভবনেই পড়ব। আমি অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টে পড়ব না।’

মিথিলা বলেন, ‘সায়েন্সের মানে ম্যাথস, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এসব বিষয় পড়ে আমার অভ্যাস। তো সেখানে (কলা ভবন) যাওয়ার পর যখন আমাকে বিভিন্ন ধরনের বিষয় বলা হচ্ছিল, পলিটিক্যাল সায়েন্স, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ইকোনমিক্স— আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’

পরিবারে তিনিই ছিলেন প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ফলে কোন বিষয় বেছে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতাও কাছাকাছি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভর্তি সাক্ষাৎকারের সময় তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বেছে নিতে বলা হলে তিনি সেটিই গ্রহণ করেন।

মিথিলার কথায়, ইন্টারভিউয়ের সময় আমাকে বলল, ‘তুমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান না?’ আমি বললাম, ঠিক আছে। তার মধ্যে বিজ্ঞান তো আছে। সেরকমভাবে কিছু জেনে বুঝে আমি আমার বিষয়টা নির্বাচন করতে পারিনি আসলে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘নামে বিজ্ঞান আছে’ ভেবেই ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন মিথিলা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত মুখ রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। পড়াশোনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক পডকাস্টে নিজের উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্বাচনের পেছনের অজানা ও কৌতূহলোদ্দীপক গল্প শোনালেন এই অভিনেত্রী।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়েছেন অনার্স ও মাস্টার্স। তবে এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার জন্য ছিল অনেকটাই আকস্মিক। ছোটবেলায় মায়ের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে যাওয়া-আসার স্মৃতিই পরবর্তী সময়ে তার বিষয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে।

মিথিলা জানান, এসএসসি ও এইচএসসি দুটিই তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাকে। মিথিলা বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছি। অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোই।’

মিথিলার কথায়, ‘আমার ধারণা, অবচেতন মনে আমার ভেতরে একটা একটা ভালোবাসা ছিল ওই জায়গাটার প্রতি। তো সেখান থেকে আমি ভাবলাম যে, না ঠিক আছে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়বো। কিন্তু যদি পড়ি তাহলে আমি কলাভবনেই পড়ব। আমি অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টে পড়ব না।’

মিথিলা বলেন, ‘সায়েন্সের মানে ম্যাথস, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এসব বিষয় পড়ে আমার অভ্যাস। তো সেখানে (কলা ভবন) যাওয়ার পর যখন আমাকে বিভিন্ন ধরনের বিষয় বলা হচ্ছিল, পলিটিক্যাল সায়েন্স, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ইকোনমিক্স— আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’

পরিবারে তিনিই ছিলেন প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ফলে কোন বিষয় বেছে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতাও কাছাকাছি ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভর্তি সাক্ষাৎকারের সময় তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বেছে নিতে বলা হলে তিনি সেটিই গ্রহণ করেন।

মিথিলার কথায়, ইন্টারভিউয়ের সময় আমাকে বলল, ‘তুমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান না?’ আমি বললাম, ঠিক আছে। তার মধ্যে বিজ্ঞান তো আছে। সেরকমভাবে কিছু জেনে বুঝে আমি আমার বিষয়টা নির্বাচন করতে পারিনি আসলে।