ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার ঘটনার পর ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা সবসময় লবিতে থাকত। আমি যে জায়গায় যেতাম সেই জায়গাই সঙ্গে সঙ্গে যেত। ৮ তারিখে আমি পুলিশ ফাইল করেছি। ওই জায়গার পুলিশ আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আক্রমণ করেছে; তারা নিজেরাই সমস্যার মধ্যে পড়েছে। যারা আক্রমণ করেছে তারা মনে করছে যে, পার পেয়ে যাবেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, অথবা পানি মেরেছে। আমার গায়ে হাত তুলেছে তারা। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। তারা তাদের জায়গা অনিরাপদ করেছে; আমাদের না।’
দলকানা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, আপনার পরিবার সাফার করবে। কিন্তু দলের যে বড় বড় নেতারা আছেন, যারা আপনাদের অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে আপনাদের। তাদের জীবন কিন্তু আপনাদের না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনারা বাংলাদেশে টাকা পাঠান। আপনারা এগুলো আর প্লিজ কইরেন না।
এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন বলে জানান বাঁধন। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও জানান এই অভিনেত্রী।
গত সপ্তাহে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।’ দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি সেখানে জিতে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার।
৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানান বাঁধন। তার অভিযোগ, তাকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন।
বাঁধনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সমর্থনের বার্তা এসেছে।

বিনোদন ডেস্ক/ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 






















